প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজার জলপাই তোলার মৌসুম শুরু হয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের মধ্য দিয়ে। তবে ঐতিহ্যবাহী এই সুজলা বাগানের চিত্র এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলার ফলে হাজার হাজার জলপাই গাছ বুলডোজারের দ্বারা মাটির সাথে মিশে গেছে। যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন ফিলিস্তিনিরা টিকে থাকার শেষ সম্বলটুকু সংগ্রহ করছে।
রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে গাজার জলপাই চাষিদের এই মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধের আগে গাজায় জলপাই ছিল স্থানীয় কৃষির অন্যতম প্রধান গর্ব। বিস্তীর্ণ সবুজ এই বাগানগুলো স্থানীয়দের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাজার ঘনবসতিপূর্ণ জনগণের জন্য শান্তির আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করত।
স্থানীয় কৃষি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এক সময় প্রায় ২০ লাখ জলপাই গাছ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেগুলোর মধ্যে মাত্র দেড়ে লাখের মতো গাছ কোনোমতে টিকে রয়েছে। ফলন বিপর্যয়ের এই মৌসুমে যেখানে অতীতে প্রায় ৪০ হাজার টন জলপাই উৎপাদিত হত, সেখানে এবার তা নেমে মাত্র ৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে তেল উৎপাদনও ৫ হাজার টন থেকে কমে মাত্র ৭০০ টনে নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহ এলাকায় এখনও বেঁচে থাকা কিছু বাগানে ভিন্ন এক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পরিবারের ছোট সদস্যরা মই বেয়ে উঁচু ডালে উঠছে, আর নিচে শিশুরা সবুজ জলপাই কুড়াচ্ছে। বাগানের ছায়ায় তারা ছোট্ট একটি পারিবারিক পিকনিকের আয়োজন করেছে।
তবে এই আনন্দ কেবল ক্ষণিকের স্বস্তি। শ্রমজীবী আহমেদ খাদার জানান, অতীতে জলপাই মরশুমে শ্রমিকরা দুই থেকে তিন মাস কাজ পেতেন। কিন্তু আজ এক দিনের মজুরি মিললেই তারা কৃতজ্ঞতা অনুভব করছেন। তিনি বলেন, “সন্তানদের মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দিতে এবং দৈনিক রুটি-রুজির যোগান পেতেই আমরা আজও মাঠে নামতে বাধ্য হচ্ছি।”
দীর্ঘ সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে জলপাই গাছের এই ধ্বংসাবশেষ কেবল একটি ফসলের ক্ষতি নয়, এটি ফিলিস্তিনিদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ভূমির সাথে তাদের সম্পর্কের ওপর একটি চরম আঘাত। সূত্র: রযটার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন