প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইজারাদারদের পক্ষের মো. দেলোয়ার হোসেন কাকন নামে একজন গুরুতর আহত হন।তিনি ভৈরব পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা।
অপরদিকে বালুমহাল ইজারাদারের লোকজন স্পীডবোডে এসে গণঅধিকার পরিষদের ভৈরবের সংগঠক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন, আশরাফুল আলম বাবু ও ঢাকার দুইজন সাংবাদিকসহ নৌকায় থাকা লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও সাংবাদিক জাকির হোসেন।
আজ ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকায় নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ইজারাদার পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, উপজেলার খলাপাড়া এলাকায় ড্রেজারে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, আশরাফুল আলম বাবু ও আরমান মিয়ার নেতৃত্বে ইজারাদারের পক্ষের দেলোয়ার হোসেন কাকনের ওপর হামলা চালানো হয়। এসময় তার মাথায় ও কান সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে রক্তাক্ত জখমসহ গুরুতর আহত করা হয়। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
আহত যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেন কাকন অভিযোগ করেন, বৈধ ইজারা নিয়ে নদীতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি নৌকার টোকেন দেয়ার জন্য পাড়ে ছিলেন। তখন ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, আশরাফুল আলম বাবু ও আরমান মিয়ার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২জন লোক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁর মাথা ও কানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেয়া হয়। এবিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল। তিনি বলেন, কয়েকজন সাংবাদিকসহ তাঁরা খলাপাড়া এলাকায় মেঘনা নদীতে যান ড্রেজারে বালু উত্তোলন দেখার জন্য। নদীতে ৭০টির অধিক ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ছবি ও ভিডিও করতে গেলে ইজারাদারের পক্ষের লোক ভৈরব পৌর তাঁতী দলের সভাপতি মাইনুল ইসলাম বেকুলের নেতৃত্বে ও নির্দেশে দুইটি স্পীডবোডে ১৫ থেকে ২০জন সন্ত্রাসী আমাদের ইঞ্জিন চালিত নৌকাকে ধাওয়া করলে নৌকাটি পাড়ে ভিড়ার সময় তারা পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নৌকায় উঠে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা ঢাকার দুই সাংবাদিকসহ আমাদের মারধোর করে আহত করেন এবং মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় লোকজন তখন আমাদেরকে বাঁচতে এগিয়ে আসলে তারা স্পীডবোড নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইজারাদারের লোক দেলোয়ার হোসেন কাকন স্পীডবোড থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে আমরা ও এলাকাবাসী লোকজন তাকে ইজিবাইক দিয়ে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। এখন তারা মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে আমরা তাদের ওপর হামলা করেছি। যা কোন ভাবেই সত্যি নয়। আমাদের কাছে ভিডিও রয়েছে তারা যে আমাদেরকে নদীতে ধাওয়া করেছে। এলাকাবাসী লোকজন স্বাক্ষী আছে। এলাকাবাসী লোকজন এগিয়ে না আসলে আমাদেরকে বালু খেকোরা প্রাণে মেরে ফেলতো। এবিষয়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর অভিযোগ করবো।
এবিষয়ে পৌর তাঁতীদল সভাপতি মাইনুল ইসলাম বেকুল বলেন, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কথাটা সত্য না। ড্রেজার দেখার জন্য স্পীডবোড সারাদিনই নদীতে থাকে। নৌকা দিয়ে সাংবাদিক নিয়ে এসে ড্রেজারের ছবি ও ভিডিও করলে আমাদের কিছু লোক এসে আমার ম্পীডে উঠে নৌকার পিছনে পিছনে নদীর পাড়ে যায়। সেখানে গিয়ে নৌকায় উঠে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারি হয়। এতে কাকন মারাত্মকভাবে আহত হয়। এছাড়াও আমাদের আরও দুইতিনজন আহত হয়েছে। আহত কাকন স্পীডবোডে আমাদের সঙ্গেই গিয়েছিলো। নৌকায় মারামারির ভেতরে কে কাকনকে মারধর করে আহত করেছে সেটা খেয়াল করতে পারেনি।
এবিষয়ে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ জানান, প্রতিমন্ত্রী স্যার আসায় আমি সকাল থেকে উনার সঙ্গে আছি। নদীতে মারামারি বিষয়ে আমি অবগত নই।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম মামুনুর রশীদ মুঠোফোনে জানান, নদীতে মারামারির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন