প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকলে বাধা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি রয়েছেন।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এই হামলার ঘটনা ঘটে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলায় অবস্থিত ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে পেছনের ফটক ভাঙার মাধ্যমে এবং দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বেশ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর করেন। এ সময় তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন এবং শিক্ষকরা তাদের প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষের সূচনা হয়।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, কেন্দ্রে ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।
এমসিকিউ পরীক্ষার সময় পরীক্ষা কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করার চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকরা বাধা দেন। এ ঘটনার পর তারা শিক্ষকেদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এরপর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা শেষে একদল পরীক্ষার্থী সংঘবদ্ধভাবে কলেজে হামলা চালান। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে আরো কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন এবং আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ এবং ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ রয়েছে, যার প্রভাব পরীক্ষার্থীদের ওপর পড়েছে। তাদের অভিযোগ, কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা কিছু শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা দাবি করেন, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ার কারণে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর ঘটেছে। এ ঘটনায় আমি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন