প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দৈনিক বরিশাল মুখপত্রের বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাইফুল অপূর্বর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা পরিচয় দেওয়া বাবুল মোহরীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ঘিরে ধরে মারধর করেন। এতে দুই সাংবাদিক আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
হামলার সময় তাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ও ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে সংঘর্ষের ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী লীগ আমলে দীর্ঘদিন দলিল লেখক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক
বাবুল মোহরীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বাবুল মোহরী দলিল লেখক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
দীর্ঘ ১৬ বছরে বিএনপির কোনো সভা-সমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল-মিটিংয়ে বাবুল মোহরীকে কোনোভাবেই দেখা যায়নি** বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। অথচ ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির বড় ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের সময়ে বিএনপির কোনো সভা-সমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল-মিটিংয়ে যাকে দেখা যায়নি, তিনি কীভাবে এখন নিজেকে দলের বড় ও ত্যাগী নেতা হিসেবে দাবি করছেন?
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সেই বাবুল মোহরীর নেতৃত্বেই এবার তাদের ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দিয়ে হামলা করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় হামলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বের অংশ হিসেবে আসাদুজ্জামান মুরাদ ও সাইফুল অপূর্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় বাবুল মোহরীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, তাদের মারধর করে আহত করা হয় এবং একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে আসেন। হামলাকারীরা তাদের পেশাগত পরিচয় নিয়েও অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলাকারীদের মধ্যে নিজেদের ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে দাবি করেছেন সাংবাদিকরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে নয়, সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। তাদের ওপর হামলা, পেশাগত পরিচয় নিয়ে অপমান এবং মোবাইল ফোন থেকে ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হামলার ঘটনায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং হামলার ঘটনায় তার ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি কোনো লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দেননি। এ ছাড়া মুঠোফোনে যোগাযোগের একপর্যায়ে কলটি কেটে দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন