প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক জোট 'ইন্ডিয়া' একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা হালনাগাদের 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (এসআইআর) কার্যক্রম পরিচালনার সময় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে চরম হট্টগোল চলছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা এবং রাজধানী দিল্লিতে মহাসমাবেশের মতো একটি যৌথ রণকৌশল ঘোষণা করা হয়েছে। বিরোধী নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর-এর বিরুদ্ধে “আইনি ও রাজনৈতিক” উভয়ভাবেই লড়াই করতে হবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনারদের আমৃত্যু আইনি সুরক্ষাদানকারী ২০২৩ সালের নিয়োগ আইনকে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচন কমিশনকে "পুতুলের" মতো ব্যবহার করছেন।
বিরোধী দলগুলোর ঘোষিত ছয় দফা কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে: ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে "গণতন্ত্র রক্ষা" পদযাত্রা, ৬ অক্টোবর বিরোধী সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ, ১ নভেম্বর দিল্লিতে প্রধান সমাবেশসহ মোট পাঁচটি মহাসমাবেশ এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এসআইআর ও নির্বাচন সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন।
বুধবারের বৈঠকে ১৯টি দলের ৩৩ জন শীর্ষ নেতা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কপিল সিব্বল উপস্থিত ছিলেন। খাড়গে ছাড়াও কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জি, আরজেডির তেজস্বী যাদব, সিপিআইএমের এম এ বেবি, সিপিআইএমএলের দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, এনসিপির ওমর আবদুল্লাহ, পিডিপির মেহবুবা মুফতি এতে যোগ দেন। শিবসেনার (ইউবিটি) উদ্ধব ঠাকরে এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।
বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, মোদী ও শাহ যে ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন— তা দেশের মানুষের কাছে পৌছে দিতে বিরোধী দল সফল হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে এক ধরনের নতুন প্রতিরোধের অনুভূতি তৈরি হয়েছে যে যা ঘটছে তা ভুল এবং তা বন্ধ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, "ইন্ডিয়া জোটের সব নেতার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার হলো— যারা ভারতীয় গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে তাদের শাস্তি সুনিশ্চিত করা। তারা যত জ্যেষ্ঠ বা প্রভাবশালীই হোক না কেন, ভারতীয় গণতন্ত্র যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে বড়।"
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনটির বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্টে যৌথ আবেদন জানাবেন। এছাড়া ইভিএম-এর বদলে পেপার ব্যালটে ভোটগ্রহণের দাবিতে সব দল একমত পোষণ করে।
বৈঠকে সিপিআইএম নেতা এম এ বেবিসহ বাম নেতারা বলেন, এই লড়াই স্পষ্টভাবেই আরএসএস-এর বিরুদ্ধে হতে হবে এবং দলীয় গণ্ডির বাইরে গিয়ে সুশীল সমাজকেও যুক্ত করা দরকার। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, নতুন সরকার গঠনের পরও বিজেপির গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা থামেনি। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় তারা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর সূচনা বক্তব্যে বলেন, আগামী নির্বাচনগুলোতে এসআইআর-পূর্ব ভোটার তালিকা ব্যবহার করতে হবে। কোনো বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়ার আগে উপযুক্ত নোটিশ ও আপিলের সুযোগ দিতে হবে এবং এমন একটি নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে হবে যা পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন