প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ফুঁ দিয়ে হাম, যক্ষ্মা, বন্ধ্যাত্বসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার দাবি করছেন শফিকুল ইসলাম (৩১) নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক ও কবিরাজ দাবি করা শফিকুলের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, বশীকরণ এবং রোগীকে সরাসরি না দেখেই বিভিন্ন সমস্যার ‘চিকিৎসা’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শফিকুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীরপাঠ কোঁচপাড়া গ্রামের মৃত হুজুর আলীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক ও মহাকবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না থাকা শফিকুল অল্প সময়ের মধ্যেই ঝাড়-ফুঁক ও কথিত চিকিৎসার মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। তার বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণের পাশাপাশি জমি কেনার উদ্যোগ ও খামার করার কাজ চলছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে শফিকুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে সেখানে ভিড় করেছেন। বাড়ির বাইরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি রোগীদের সমস্যা শুনে তাদের সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। পরে রোগীদের একে একে শফিকুলের সামনে নেওয়া হলে তিনি তাদের ফুঁ দেন। ফুঁ নেওয়ার পর অনেকে তার সামনে টাকা রেখে চলে যান।
এ সময় শফিকুলের পাশে থাকা তার চাচাতো ভাই সামিউলকে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে তেল-পড়া ও পানিভর্তি শিশি দিতে দেখা যায়। কয়েকজনকে আবার অ্যালোপ্যাথিক ওষুধও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারীর বাড়াইটারীচর থেকে আসা ফজিলা নামের এক নারী জানান, দাম্পত্য কলহের সমস্যা সমাধানের আশায় তিনি এরই মধ্যে পাঁচবার শফিকুলের কাছে এসেছেন এবং এ পর্যন্ত অনেক টাকা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো ফল পাননি। এরপরও তার কাছে নতুন করে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দম্পতি জানান, সন্তান লাভের আশায় তারা প্রায় তিন মাস ধরে শফিকুলের কাছে আসছেন। তার চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়ার পরও কোনো সুফল পাননি বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শফিকুলের কথিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় চার থেকে পাঁচজনের একটি দল সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে সামিউল অন্যতম বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে মাসোহারা দেওয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শফিকুল ইসলাম কীভাবে আধ্যাত্মিক সাধক ও কবিরাজ হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বপ্নের মাধ্যমে তিনি দীক্ষা পেয়েছেন। তার শরীরে আধ্যাত্মিক শক্তি ভর করেছে এবং তিনি রোগের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে চিকিৎসা দেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন, “সে শতভাগ বাটপার ও প্রতারক। গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তাকে সতর্ক করা হলেও সে থামছে না। লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা বলেন, নিবন্ধিত বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ছাড়া এ ধরনের রোগের চিকিৎসা দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার কারও নেই। তার ভাষ্য, এটি প্রতারণার শামিল। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, জটিল বা সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঝাড়-ফুঁক বা কথিত আধ্যাত্মিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন