প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শহীদদের আত্মত্যাগ ও মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শহিদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের ১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা আলহাজ শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মা ফারহানা দিবা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে জনগণের নিরন্তর ও আপসহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা আজকের এই বাংলাদেশ পেয়েছি, যার সুবাদে আজ আমরা মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে কথা বলতে পারছি।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন থাকবে।
অনুষ্ঠানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার মা-বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সন্তানের ফেলে যাওয়া স্মৃতি মনে করে তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এলে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক হৃদয়স্পর্শী ও নিস্তব্ধ পরিবেশ নেমে আসে।
অনুষ্ঠানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরবর্তীতে তার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফারহান ফাইয়াজ (মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া) শহীদ হন। তিনি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ গবেষণামূলক কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ন্যায়সংগত দাবিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমণ্ডি এলাকায় রাজপথে নামেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলায় তিনি সরাসরি বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে ধানমণ্ডির সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক আত্মত্যাগের মাধ্যমে শহীদ ফারহান ফাইয়াজ আজ দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে এক চিরস্মরণীয় প্রেরণার প্রতীক।
অনুষ্ঠানে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘লাল’ ও ‘সবুজ’ দলের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ী দল ‘লাল’-এর খেলোয়াড়দের হাতে মন্ত্রী ও শহীদ ফারহান ফাইয়াজের মা-বাবা চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম। অনুষ্ঠানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন