প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর জৌকুড়া ঘাট থেকে পাবনার নাজিরগঞ্জ ঘাটের ফেরি চলাচল ১৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা তীব্র স্রোতের কারণে ঘটেছে। এই পরিস্থিতির ফলে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দুই জেলার মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জৌকুড়া ফেরিঘাটের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, পাবনার নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাট পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। এই পথে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কপোতি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামে দুটি ফেরি চলাচল করে। তবে ‘কপোতি’ ফেরিটি গত এক মাস ধরে মেরামতের জন্য কারখানায় রয়েছে, ফলে একমাত্র ‘ক্যামেলিয়া’ ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছিল।
তিনি আরো জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে পদ্মা নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ‘ক্যামেলিয়া’ ফেরির চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ফেরিটি নিরাপদে নৌপথ অতিক্রম করতে পারছে না। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ (শুক্রবার) সকাল ৯টার দিকে এ রুটে একটি ট্রায়ালটিপ চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্রোতের তীব্রতা থাকায় সে ট্রায়াল আর দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্রোতের তীব্রতা না কমা পর্যন্ত এ রুটে ফেরি চলাচল করা সম্ভব হবে না।
নারায়ণগঞ্জের মেরিন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌপথে ফেরি চলাচলের জন্য সাধারণত নদীর স্রোতের গতি ৪ থেকে ৫ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে স্রোতের গতি প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল। এর ফলে কে-টাইপ ফেরির ইঞ্জিনের সক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় তীব্র স্রোতের বিপরীতে ফেরিটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। নদীর স্রোতের তীব্রতা কমে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।
এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত এ নৌপথ ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌপথের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ব্যবসাসহ বিভিন্ন কাজে তাদের নিয়মিত পাবনায় যেতে হয়। গত ১৩ দিন ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় তাদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তীব্র স্রোতের কারণে স্পিডবোটে নদী পারাপারও ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে পারাপার হতে হচ্ছে।
এই নৌপথে স্রোতের বিপরীতে চলতে সক্ষম আধুনিক ও শক্তিশালী রোরো ফেরি চালুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন