প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় একটি ঘটনা কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হয়রানি মূলক মামলা নিয়েছে থানা পুলিশ। কোন প্রকার পুলিশি তদন্ত ছাড়া মামলাটি গ্রহণ করায় সাংবাদিকসহ নিরীহ ১১টি পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার বাদী থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পুলিশ মামলা নিয়েছে। ভূক্তভোগি পরিবারগুলো সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এই বিষয়টি তুলে ধরেছে। তবে পুলিশ তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে জানায়, অবিশ্বস্ত ব্যক্তিদের যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, তাই মামলাটি তদন্ত করা হবে। ভূক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ডিগ্রীরচর গ্রামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সেলিনা আক্তার ও শাহিন শিকদারকে সড়কের পাশে একটি নির্জন স্থানে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন স্থানীয়রা। তারপর তাদের সাবেক ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম ঢালীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। কিন্তু একাধিকবার প্রচেষ্টার পরও ওই রাতে পুলিশের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পরে রাত ২টার দিকে স্থানীয় যুবক শুভ ঢালীর মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯-এ কল আসে এবং বিষয়টি জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানো হয়। রাত ৩টার দিকে শিবচর থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল ঘটনাস্থলে আসেন। যদিও তিনি অভিযুক্ত সেলিনা ও শাহিনকে থানায় নিতে অসমর্থ হন। এক পর্যায়ে আত্মীয়দের খবর দিলে তারা এসে রাত ৪টার দিকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এর পরদিন ২১ মে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে শিবচর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর এসআই আমিনুল ইসলাম গভীর রাতে শুভ ঢালীর বাড়িতে যান এবং দরজায় আঘাত করেন। কিন্তু দরজা না খোলায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর এই ঘটনার আট দিন পর কোন ধরণের পুলিশি তদন্ত ছাড়া সেলিনা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন, যা থানা পুলিশ গ্রহণ করে। মামলাটির আসামীদের মধ্যে আজকের দর্পণ এবং ইসলামিক টিভির সাংবাদিক মীর মফিজুর রহমান ইমরানসহ আরও কয়েকজন রয়েছে। স্থানীয়রা ও আসামীদের পরিবারের সদস্যরা এই ধরনের হয়রানিমূলক মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে। পুলিশ জানান, তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে এমন অভিযোগ সত্য নয় এবং এই মামলায় নিশ্চিত করে বলছেন, যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হয়, তাই মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। সট: কামাল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শিবচর থানা, মাদারীপুর। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত ১১ জন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হয়রানির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন