প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে মেনে না নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা ছয়টি কারণ উপস্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ক্লাবে বিএনপির মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে স্মারকলিপি প্রদানকালে তারা এই ছয়টি কারণ উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, তারা চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে তার পূর্বের পদে পুনর্বহালের দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, বিদায়ী উপাচার্য ড. সায়েমের মাত্র ৫৬ দিনের দায়িত্বকালীন সময়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে তাকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া তারা মেনে নিতে পারছেন না। নতুন উপাচার্যের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের জন্য ছয়টি স্পষ্ট কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
এই কারণগুলো হলো, আনুষ্ঠানিক সংলাপ এড়িয়ে চলা, শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দেওয়া, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্কিতদের নিয়ে প্রবেশ, শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট ও ভাঙচুর। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কথা বলার পরও ভিসি শেখ শরীফুল আলম শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় বা এজেন্ডা নির্ধারণ করেননি। এছাড়া, প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে দেওয়ার বিষয়টিকে শিক্ষার্থীরা দায়িত্বহীন ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ হিসেবে মনে করছেন।
গত ১২ অক্টোবর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতামত ও আস্থার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়নে যুক্ত সাবেক কিছু শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা ও উপাচার্য ভবনের সম্পদ নষ্টের অভিযোগও উপাচার্যের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে।
একই স্মারকলিপিতে সাবেক উপাচার্য ড. সায়েমকে কেন শিক্ষার্থীরা চান, তার কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষকতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়েটের মর্যাদা বৃদ্ধিতে ড. সায়েমের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সুযোগ, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন, জ্বালানি খাতে জনবল তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার অবদান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, চুয়েটে দীর্ঘ ৩৬ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর গত ২৮ অক্টোবর থেকে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন। তবে স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরা কোনোভাবেই নবনিযুক্ত উপাচার্যের গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি নয়। সরকার যদি অবিলম্বে ড. সায়েমকে পুনর্বহাল না করে এবং নতুন উপাচার্য পুনরায় ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আবারও সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ ও ক্লাস বর্জনের কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
Ñএমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন