প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি রেলস্টেশনে যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এ খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দমিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মী, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে হিলি রেলস্টেশন থেকে আনন্দমিছিলটি বের করা হয়। পরে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
আনন্দমিছিলে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া হিলি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আনন্দমিছিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, যোগ্য মানুষকে ভোট দিলে যে এলাকার উন্নয়ন হয়, হিলির ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন তারই প্রমাণ। বিগত দিনে হিলি অনেক অবহেলিত ছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচনের সময় আমাদের সমাজকল্যাণমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, তাঁকে ভোট দিয়ে সহযোগিতা করলে এলাকার মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমানে হিলির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের উন্নয়নে বিশ্বাসী। দিনাজপুর-৬ আসনের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের হাত ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে। মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তিনি কাজ করবেন। ইতিমধ্যে চার উপজেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হিলিবাসী যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলিত ছিলেন। হিলি স্থলবন্দর থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও সে অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে দুটি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন তাদের দীর্ঘদিনের দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি কার্যকর হলে হিলি ও আশপাশের এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে গত ২৮ অক্টোবর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে হিলি রেলস্টেশনে দুটি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৭৬৫ নম্বর আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস এবং ৮০৫ নম্বর আন্তনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন হিলি রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতির অনুমতি পেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের পাঠানো প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের চাহিদা ও রেলওয়ের রাজস্ব আয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসরিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির অনুমোদনের পাশাপাশি হিলির ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। এখন দ্রুত ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন হিলি ও আশপাশের এলাকার যাত্রীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন