প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় নাটোর জেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো পরীক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। তাদেরকে সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। শিক্ষা বিভাগ জানতে চেয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে।
শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, এবার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি এমপিও ও ১৬টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে, এমন ফলাফলে হতবাক হয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এমন ফলাফল হতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ডিসেম্বরের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবে বলে জানা গেছে।
শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নাটোর সদর উপজেলায় বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়; বাগাতিপাড়া উপজেলায় পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, টিপুরিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ; গুরুদাসপুর উপজেলায় নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস কলেজ, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য এবং বিজনেস ইনস্টিটিউট; লালপুর উপজেলার মাকড়াম উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, রাধাকান্তপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, নেংগোপাড়া আলিম মাদরাসা, রামপুর জামিরিয়া আলিম মাদরাসা; সিংড়া উপজেলার আগাপাড়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ; নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাতারভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান হলো গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কমার্স কলেজ ও নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারীপাড়া ফাজিল মাদরাসা।
নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারীপাড়া দাখিল মাদরাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, "এবার প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস না করায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। প্রতিবছরই ভালো ফলাফল করেন শিক্ষার্থীরা। এবার কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না।" তিনি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করার কথাও জানান।
গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীরা ২৩ জনই বাংলা ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে।" তিনি জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বরে অকৃতকার্যদের যে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণ করলে আশা করছেন সকলেই কৃতকার্য হবেন।
শিক্ষাবিদ সুবিধ কুমার মৈত্রের মতে, "কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা উদ্বেগজনক।" তিনি বলেন, এর পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতাই নয়, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও থাকতে পারে। তাই, শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী জানান, ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন এমন ফলাফল হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনসহ তাদের সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খোঁজ নিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জেলা থেকে উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন