প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরে পুলিশের অভিযানে আটক সাতজনকে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হানিফ খান ও সিফাত খলিফা নামের দুই আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো. অহিদুজ্জামান অহিদ তাঁদের পুলিশের কাছে পৌঁছে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আসামি পালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার পাকদী এলাকার শাহীন বেকারির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর মডেল থানা-পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পাকদী এলাকার তাজন নেছা স্মৃতি সংঘ নামের একটি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে সাতজনকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা হলেন—নান্না খলিফার ছেলে সিফাত খলিফা (২৫), হাবিবুর রহমানের ছেলে হানিফ খান (৪০), মৃত ডাবলু খলিফার ছেলে আরিফ খলিফা (২৯), মৃত রকিব খানের ছেলে শ্রাবণ খান (১৮), জাহাঙ্গীর আলম সরদারের ছেলে ইয়ারসিন সরদার (১৮), মনির মাতুব্বরের ছেলে রমজান মাতুব্বর (১৮) এবং মৃত দবির মুনশির ছেলে মো. মঈন মুনশি (২২)। তাঁরা সবাই পাকদী এলাকার বাসিন্দা।
আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ স্থানীয় লোকজনকে লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিড়ের মধ্যে হানিফ খান ও সিফাত খলিফা হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরে তাঁদের খুঁজতে পুলিশ আবারও পাকদী এলাকায় অভিযান চালায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো. অহিদুজ্জামান অহিদ ওই দুই ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অহিদুজ্জামান দাবি করেন, পুলিশ ভুল করে ওই দুই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে রেখে গিয়েছিল। পরে অন্য একটি পিকআপ এসে তাঁদের নিয়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, আসামিরা অন্য কোথাও যাননি এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো সমস্যা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকদী এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বাগ্বিতণ্ডার সময় ভিড়ের সুযোগে ওই দুই ব্যক্তি হাতকড়াসহ সরে পড়েন। পরে তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ পুনরায় এলাকায় অভিযান চালায়।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ আসামি পালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হানিফ খান ও সিফাত খলিফাকে হাতকড়াসহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় তিনি তাঁর মুঠোফোনে ওই দুই ব্যক্তির ছবি দেখান। তবে ছবিতে আটক অন্য পাঁচজনকে দেখা যায়নি।
ওসি আরও বলেন, ওই ক্লাবে মাদকের কারবার চলে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন