প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নামটি হয়তো অনেকের কাছে অপরিচিত। তবে পর্দায় তার উপস্থিতি দেখলেই দর্শক তাকে চিনে ফেলবেন। কখনো তিনি ছিলেন কয়েক মিনিটের জন্য, কখনো আবার গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে—অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। বিশেষ করে ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় বলা একটি সংলাপ তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি আজও মিম হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হিন্দি সিনেমার পরিচিত মুখ, চরিত্রাভিনেতা ও কৌতুক অভিনেতা মুশতাক খান আর নেই।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের (এফডব্লিউআইসিই) সভাপতি বি এন তিওয়ারি।
মুশতাকের ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে অভিনেতার ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার পর একসময় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে আট দিন আগে আবারও মরণব্যাধিটি ফিরে আসে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ক্যানসার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। শুক্রবার তার দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
নায়ক হিসেবে তিনি কখনো পর্দায় আসেননি। বরং অধিকাংশ সিনেমায় তার ভাগ্যে জুটেছে ছোট ছোট পার্শ্বচরিত্র। কিন্তু অভিনয়ের স্বাভাবিকতা, সংলাপ বলার নিজস্ব ধরন এবং নিখুঁত কৌতুকবোধ দিয়ে তিনি তারকাবহুল সিনেমাতেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। কখনো কয়েক মিনিটের দৃশ্যে, কখনো একটি সংলাপে—তাতেই দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়ার দক্ষতা ছিল তার।
১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে মুশতাকের। এরপর দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি হিন্দি সিনেমায় কাজ করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘রাজা’, ‘হেরা ফেরি’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘জোড়ি নম্বর ১’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’ ও ‘ও মাই গড!’।
সময় বদলেছে, সিনেমার ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে, দর্শকের প্রজন্মও বদলেছে। কিন্তু অভিনয়ে থেমে থাকেননি মুশতাক। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘স্ত্রী’, ‘বাধাই দো’, ‘গদর ২’ ও ‘স্ত্রী ২’-এর মতো সিনেমায় কাজ করে। ক্যারিয়ারের পরের দিকে তার কাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘বনবাস’, ‘বেবি জন’, ‘ধুম ধাম’ ও ‘জাত’।
‘ওয়েলকাম’-এর সেই সংলাপেই অমর
মুশতাক খানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আনিস বাজমি পরিচালিত ‘ওয়েলকাম’ সিনেমা। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে অক্ষয় কুমার, নানা পাটেকর, অনিল কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকারা অভিনয় করেছেন। তাদের মধ্যে ছোট্ট একটি দৃশ্যে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন মুশতাক।
সিনেমাটিতে নানা পাটেকরের অভিনীত উদয় শেঠির দলের এক সদস্যের চরিত্রে তাকে দেখা যায়। নিজের নকল পায়ের গল্প বলতে গিয়ে চরিত্রটি জানায়, একসময় সে ছিল বড় হকি খেলোয়াড়। ‘মেরি এক টাং নকলি হ্যায়…’ দিয়ে শুরু হওয়া সেই গল্পে আসে ‘উদয় ভাই’-এর প্রসঙ্গও।
মুশতাকের সংলাপ বলার ভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি এবং কৌতুকপূর্ণ উপস্থাপন দৃশ্যটিকে স্মরণীয় করে তোলে। সময়ের সঙ্গে দৃশ্যটি যেন সিনেমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মিম, ভিডিও এবং নানা ধরনের পোস্টে ব্যবহৃত হয়েছে তার সেই সংলাপ।
‘ওয়েলকাম’ মুক্তির প্রায় দুই দশক পরও নতুন প্রজন্মের অনেক দর্শকের কাছে মুশতাক খানের পরিচয়ের অন্যতম সূত্র এই দৃশ্য। চরিত্রটি যে এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, তা হয়তো ছবির নির্মাণের সময় কল্পনাও করেননি তিনি।
আশির দশকে শুরু হওয়া অভিনয়জীবনে তিনি নানা প্রজন্মের তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন। কখনো কৌতুক, কখনো সিরিয়াস চরিত্র—বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় নিজেকে মেলে ধরেছেন। বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে টেলিভিশন, এমনকি ওটিটি—সব মাধ্যমেই রেখেছেন কাজের ছাপ।
নায়ক না হয়েও কীভাবে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া যায়, মুশতাক খান ছিলেন তার উদাহরণ। পর্দায় তার উপস্থিতি হয়তো খুব বেশি সময়ের ছিল না, কিন্তু সেই অল্প সময়েই তিনি অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছেন। ‘ওয়েলকাম’-এর সেই সংলাপ কিংবা ‘গদর’-এর গুল খান—চরিত্রগুলোতেই দর্শকের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন এই অভিনেতা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন