প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের গণপরিবহনব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করার জন্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইভি) বাস চালুর। এই পরিকল্পনার সঙ্গে সারা দেশে একটি সর্বজনীন ইভি চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মনোরেলসহ নতুন গণপরিবহনব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগও রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের পরিবহনব্যবস্থাকে আরো পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক বাস বহর গঠন করতে সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ৫০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রস্তাব অর্থায়নের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ৩০০টি বৈদ্যুতিক বাসের প্রকল্পে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রকল্পও অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বৈদ্যুতিক বাস ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে দ্রুততা দেওয়া জন্য সরকার ৪০০ কোটি টাকা করে দুটি পৃথক ক্রয় প্যাকেজ যুক্ত করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় নারী যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ বাস বহর থাকবে, যেখানে বাসের সংখ্যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ১০০টিরও বেশি রয়েছে।
সচিব জানিয়েছেন, 'সব মিলিয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহনব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।'
তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচিত কিছু রুটে এর দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যাবে বলে সরকার আশা করছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই রূপান্তরকে সফল করার জন্য সরকার একই সঙ্গে সারা দেশে কারিগরি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি সর্বজনীন চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তুলছে। সচিব বলেছেন, চার্জিং স্টেশনগুলো কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। ফলে এটি একটি সাধারণ চার্জিং ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি অপারেটররাও ব্যবহার করতে পারবেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) দেশের ৬৪টি জেলায় তাদের নিজস্ব জমিতে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে এসব স্টেশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বেসরকারি অপারেটরদের জন্যও খোলা হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অভিন্ন কারিগরি মানদণ্ড তৈরির কাজ করছে। এতে ব্যাটারিব্যবস্থা, চার্জিং প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিক সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রাথমিকভাবে এসব মানদণ্ড বাসের জন্য প্রযোজ্য হলেও, পরবর্তীতে তা বৈদ্যুতিক মিনিবাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের বৃহত্তর পরিবহন বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে, বৈদ্যুতিক বাসের পাশাপাশি মেট্রো রেল সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প নয় এমন রুটে বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
সচিব বলেছেন, সম্ভাব্য মনোরেল রুট এবং এর কারিগরি সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের দায়িত্ব বুয়েটকে দেওয়া হয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ব্যবস্থার উপর একটি সমন্বিত উপস্থাপনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ খাতে পর্যাপ্ত দেশীয় দক্ষতা গড়ে ওঠেনি। সরকার বেসরকারি বাস মালিকদের বৈদ্যুতিক বাসে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কর ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তবে, অনেক বেসরকারি পরিবহন অপারেটর বিআরটিসির প্রাথমিক বৈদ্যুতিক বাস বহরের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করার আগে বিনিয়োগ করতে চাইছেন। বৈদ্যুতিক বাস প্রযুক্তির তুলনামূলক বেশি ব্যয় এবং যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে ভর্তুকি ব্যবস্থা ও ভাড়ার কাঠামো নিয়ে।
ড. জিয়াউল হক বলেছেন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ পরিবহনের অন্যান্য বৃহত্তর সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন