প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশে জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োগের চেষ্টা করছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি নিরাপদ থাকবে।
তিনি আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সার্সন রোডে বিপিসি’র প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তার যোগদান উপলক্ষে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে হয়তো আরও ১১ হাজার কোটি টাকার মতো লাগতে পারে। এটি সরকারের আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবুও সরকার জনগণের প্রয়োজনে এই চাপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে পারি।’
বিপিসি’র চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে আমাদের হাতে কিছুই নেই। হরমুজ সমস্যা ছিল, এখন নতুন করে বাব-এল-মানদেব সমস্যা দেখা দিয়েছে, আবার ইস্ট-ওয়েস্ট সংকটও রয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবুও আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আমাদের একটি স্থিতিশীল অবস্থানে আসতে পারব। যে গ্যাপটি রয়েছে, আমরা চেষ্টা করছি বিপিসির সক্ষমতা দিয়ে তা মোকাবিলা করতে।
বর্তমানে আমাদের তেলের কোনো সংকট নেই এবং ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আমরা অনেকটাই নিরাপদ অবস্থানে আছি।’
তিনি আরও জানান, ‘চ্যালেঞ্জ একটি স্বল্পমেয়াদি বিষয়, বর্তমানে যে সময়কাল অতিক্রম করছি তা স্বল্প সময়ের। এরপর বিশেষ করে তেল প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেই পদক্ষেপগুলো আমরা নিচ্ছি। আর যে মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমগুলো রয়েছে, সেগুলোর জন্য বিশেষভাবে পেট্রোলিয়াম সাইডে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাব। আমরা আশা করি যে থার্ড টার্মিনাল ডিসেম্বর মাসে চালু হবে, তখন সেখানে আমাদের জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না।’
এলপিজি আমদানি প্রসঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দুটি স্তর রয়েছে। একটি স্তর হলো এফএসইউ, মাতাবাড়িতে এটি এনে, পরে আমরা এলপিজি বাল্ক সাইজে অর্থাৎ ভিএলজিসি’র মাধ্যমে নিয়ে আসব। এর পর অপারেটরের মাধ্যমে মার্কেটিংয়ের জন্য সরবরাহ করা হবে। আরেকটি ছিল শর্ট টার্মে কিছু নিয়ে আসা, আমাদের সঙ্গে যাদের চুক্তি হয়েছে তাদেরকে সরবরাহ দেওয়া। এই দুটি সিস্টেম ছিল। এখন শর্ট টার্মের মধ্যে, ইনশাআল্লাহ, এই মাসের শেষে একটি ফলাফল পাব। হয়তো একটি পার্সেল চলে আসবে। আর ভিএলজিসি’র মাধ্যমে একটি বাল্ক সাইজের জাহাজ আসবে, সেটি আমরা আশা করছি এই বছরের শেষের দিকে, ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসের দিকে। আমাদের এখানে এফএসইউ-টি ভিড়াতে পারলে বা এটি সম্ভব হলে, তাহলে খুব দ্রুত আমরা আমদানি করতে পারব। এ বিষয়ে কাজ চলছে, ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হচ্ছে যে কতটুকু আমরা কাজটি করতে পারব।’
মতবিনিময় সভায় বিপিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন