প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ ভরসা হিসেবে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকে যেতে পারেন। মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের সাথে শান্তি চুক্তির আলোচনা এক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে; রাশিয়া এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরই কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চিন্তা সামনে আসছে।
কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র হলো কম দূরত্বের একটি বিশেষ ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র, যা কোনো বড় শহর বা দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার পরিবর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে ব্যবহারের জন্য তৈরি। অন্যান্য কৌশলগত অস্ত্রের তুলনায় এগুলো আকারে ছোট হলেও, এগুলোর ধ্বংসক্ষমতা অত্যন্ত তীব্র এবং এগুলো বিশাল এলাকা জুড়ে পারমাণবিক বিকিরণ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও ভারত পুতিনকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বেইজিং মস্কোকে একটি বার্তা পাঠিয়েছে, যেখানে ইউক্রেনে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা চিন্তাও না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত, রাশিয়া কিয়েভ এবং অন্যান্য শহরের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে শক্তিশালী ও প্রচলিত ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে ইউক্রেন তাদের দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করেছে। এবার তারা তেল শোধনাগারের পাশাপাশি বড় বড় ই-কমার্স গুদামগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে নিশানা করছে।
যেহেতু রাশিয়ার ওপর হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেন ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে, তাই রাশিয়া ইউক্রেনীয় এই হামলাগুলোকে ক্রমেই ন্যাটো রাষ্ট্রগুলোর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে। পুতিন রাশিয়ার অর্থনীতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে পাত্তাই দেননি।
তিনি বলেন, "ইউক্রেনই এই প্যান্ডোরার বাক্স খুলেছে এবং তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোতে পাল্টা আঘাতের সম্মুখীন হতে প্রস্তুত থাকার জন্য সতর্ক করেছেন।"
এদিরক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কোনো সদস্য দেশে হামলা চালিয়ে ন্যাটো-র সংকল্প পরীক্ষা না করার জন্য রাশিয়াকে সতর্ক করতে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই সপ্তাহে মস্কো সফর করেছেন।
জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মূল্যায়ন করেছে যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী বছরগুলোতে জোটের কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে একটি সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে ন্যাটোকে পরখ করার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
উদ্বেগের বিষয় হলো, মস্কো যে শুরুতেই একটি পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ চালাবে; এমনটা নাও হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে ছোটখাটো স্থল অনুপ্রবেশও থাকতে পারে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বুধবার জানিয়েছেন, মস্কোতে র্যাটক্লিফের বৈঠকগুলো রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে হয়েছে, পুতিনের সাথে নয়। যদিও আলোচনার বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। র্যাটক্লিফের এই ব্যতিক্রমী সফরের পর রাশিয়া ন্যাটোতে হামলা চালাতে পারে এমন খবর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে, পেসকভ সেগুলোকে নিছক জল্পনা বলে উড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, "বর্তমানে এ ধরণের অনেক ভীতিমূলক গল্প প্রকাশ করা হচ্ছে। স্বভাবতই, বাস্তবের সাথে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন