প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফ্লোরঁস শহরে ১১ বছর বয়সী শিশু লিয়ান্নার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকাহত দেশটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গত ২৯ মে নিখোঁজ হওয়া লিয়ান্নার মরদেহকে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ৭ জুন উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ৪১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি, যিনি লিয়ান্নার স্কুলসঙ্গীর বাবা বলেও জানা গেছে।
এই ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশু নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পর্কে অতীতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলার তথ্য উঠে আসায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, একজন অশুভ ব্যক্তিরা কিভাবে এতদিন সমাজে অবাধে চলাফেরা করতে পেরেছেন।
নিহত লিয়ান্নার স্মরণে এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ভিন্যু-সুর-সেনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘সলিডারিটি এশিয়া ফ্রান্স (এসএএফ)’। গার দ্য ভিন্যু-সুর-সেন থেকে মেয়র কার্যালয় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি নয়ন এনকে, সহ-সভাপতি তাওহিদ আহমেদ, ক্রীড়া বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. জাহেদ আহমেদ ও আহমেদ খালেদসহ বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশ নেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলর এবং জাতীয় পরিষদের সদস্যের সহকারী, সঙ্গে ভিন্যু-সুর-সেন শহরের শত শত বাসিন্দা। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং সচেতন নাগরিকরা এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফরাসি পুলিশের একটি বিশেষ দলও দায়িত্ব পালন করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসএএফ সভাপতি নয়ন এনকে বলেন, “আমরা লিয়ান্না হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে অতীতে শিশু নির্যাতন, সহিংসতা ও হত্যার শিকার সব শিশুর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
অন্যান্য বক্তারাও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধের পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের প্রতিনিধিরা এসএএফের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, শিশু নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ ধরনের নাগরিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কর্মসূচির একপর্যায়ে লিয়ান্নার স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন