প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি যাচ্ছিল গত ৪ আগস্ট। ওড়িশার আকাশসীমায় অবস্থান করার সময় মাঝ আকাশে হঠাৎ করে বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়।
প্রথমে এটি টার্বুলেন্স বা বাতাসের ঝাঁকুনি হিসেবে শনাক্ত করা হলেও পরে জানা যায়, গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটি ঘটেছিল। নতুন তথ্য বলছে, ফ্লাইটের প্রধান পাইলট মারিজুয়ানা সেবন করেছিলেন। তিনি পরপর দুটি ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন। সেই কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এআই২৩৭৯ ফ্লাইটের দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ১৩ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে দুজন ক্রু মেম্বারের ঘাড়ে এবং মেরুদণ্ডের নিচের অংশে মারাত্মক চোট লেগেছে। পরে বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করলে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিমানের প্রধান পাইলট সে সময় তার আসনে উপস্থিত ছিলেন না, বরং কো-পাইলট দায়িত্ব পালন করছিল।
হঠাৎ বিমানের স্বয়ংক্রিয় অটোপাইলট সিস্টেম বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একইভাবে বিমানের তিনটি স্বাধীন হাইড্রোলিক সিস্টেমের মধ্যে জটিল ত্রুটি দেখা দেয়। ককপিটে মাত্র ১ মিনিটে ৯টি সতর্কবার্তা আসে। বিমানের নাক হঠাৎ উপরের দিকে উঠে যাওয়ায় উচ্চতা হারানোর সংকেত সক্রিয় হয়। পরিস্থিতি সামলাতে যখন ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়, তখন বিমানটিকে সোজা করতে গিয়ে তীব্র ঝাঁকুনিতে সেটি ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। বিমানের তীব্র গতিতে নিচে নামার সময় ভেতরে সাময়িকভাবে ‘নেগেটিভ গ্র্যাভিটি’ বা ঋণাত্মক মাধ্যাকর্ষণ তৈরি হয়।
ফলে ককপিটের জিনিসপত্র এবং সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীরা শূন্যে ভেসে উঠে ছিটকে পড়েন।
ঘটনার পর দিল্লির বিমানবন্দরে পাইলটদের রুটিন ডোপ টেস্ট করা হলে দেখা যায়, বিমানের প্রধান পাইলট মারিজুয়ানা বা গাঁজা সেবনের পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন। তিনি পরপর দুটি ডোপ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন। তবে এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, মাদক সেবনের রিপোর্ট পজিটিভ হওয়া এবং ওই মুহূর্তের অক্ষমতা এটা দুটি ভিন্ন বিষয়। ঘটনার পেছনে এটি কি মূল কারণ তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা যৌথভাবে এয়ারবাসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, অভিযুক্ত পাইলটকে আপাতত বিমান ওড়ানোর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন