প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জটিলতা ও হয়রানি নিরসনে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি গুচ্ছ নির্দেশনা প্রদান করেছে। যৌথ মালিকানাধীন খতিয়ানের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনাগুলো কার্যকর হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়।
সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সই করা ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে যৌথ মালিকানার খতিয়ানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ফলে খতিয়ানের এক বা একাধিক মালিকের জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুযোগ নেই।
এ ক্ষেত্রে ‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩’ এর ৬(৩) ধারা অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে বা অন্য কোনোভাবে মালিকানা একাধিক ব্যক্তির ওপর বর্তালে এবং তারা জমা-খারিজ না করিয়ে থাকলে, ওই ভূমি একই খতিয়ানভুক্ত গণ্য করে তার ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ করতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, এই বিধানের কারণে সব মালিক যদি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে আগ্রহী না হন, তবে খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এক বা একাধিক মালিক হিস্যা অনুযায়ী তাদের মালিকানাধীন জমির ভূমি উন্নয়ন কর পৃথকভাবে পরিশোধ করতে পারবেন না। একইসাথে, যৌথ খতিয়ানের সম্পূর্ণ ভূমির উন্নয়ন কর পরিশোধ করা কঠিন এবং তা যৌক্তিকও নয়।
ফলে, যৌথ মালিকানার খতিয়ানের একজন মালিক তার মালিকানাধীন অংশ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারছেন না এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই জটিলতা ও হয়রানি নিরসনে পরিপত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো-
১) অনিবার্য কারণে যৌথ মালিকানার খতিয়ানের সম্পূর্ণ ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে প্রদান সম্ভব না হলে, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান বা দাখিলা ছাড়াই রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল বা আদালতের মাধ্যমে বণ্টননামা সম্পাদন করা যাবে।
২) বণ্টননামার ভিত্তিতে যৌথ মালিকানার খতিয়ানের এক বা একাধিক মালিক ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ব্যতিরেকে একক বা পৃথক খতিয়ান সৃজনের জন্য নামজারির আবেদন করতে পারবেন।
৩) সহকারী কমিশনার (ভূমি) মালিকানার সঠিকতা যাচাইপূর্বক ভূমি উন্নয়ন কর আদায় বা দাখিলা ছাড়াই নামজারির আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।
৪) নতুন সৃজিত খতিয়ানের মালিক হিস্যানুযায়ী পূর্বতন যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন করের বকেয়া (প্রযোজ্য হারে) ও হালদাবি পরিশোধ করে দাখিলা গ্রহণ করবেন।
৫) যৌথ খতিয়ান থেকে বণ্টননামামূলে নামজারি করে পৃথক খতিয়ান সৃজন ব্যতীত কোনো মালিক এককভাবে তার অংশের ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারবেন না।
৬) এ লক্ষ্যে অনলাইন বা আটমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়ন বা মডিউল সংযোজন করতে হবে।
জনস্বার্থে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন