প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার চরফ্যাশনের শশিভূষণে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে এক ব্যক্তির লাশ দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। জলিল পণ্ডিত নামক ওই ব্যক্তির লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই দুবার কবর খুঁড়ে দাফন করতে পারেনি। এই নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে। শনিবার (২০ জুন) উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৩নং ওয়ার্ডে এ ঘটনাটি ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত জলিল পণ্ডিত তার জীবদ্দশায় মোট ৪টি বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাতজন ছেলে-মেয়ে রয়েছেন। সন্তানেরা অভিযোগ করেছে যে, তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে যান। এই সম্পত্তিগত বিরোধের কারণে তার লাশ দাফনে বাধা দেন সন্তানরা। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খুঁড়তে যান। কিন্তু সেখানেও মৃতের চতুর্থ স্ত্রী ও সেই ঘরের সন্তানরা পুনরায় বাধা দেন।
এছাড়াও, লাশ আঙিনায় রেখে ভাইবোনদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পুলিশের সামনে কয়েক দফা সংঘর্ষ ঘটে। পরে এলাকাবাসী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং সন্তানদের বুঝিয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজেদের বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে সেই বাড়িতে উত্তেজনা বিরাজ করে। এক পর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় এলাকাবাসী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শশীভূষণ থানার পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতি ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করে দীর্ঘ আলোচনার পর বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে জলিলের লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে, এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তির বিরোধের কারণে একজন মৃত ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার নীল দেখা দিয়েছে। অনেকেই এই ধরনের ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন