প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক নারীকে বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি রেখে এগিয়ে এসেছেন এক পুলিশ সদস্য। ওই নারী নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর, তাকে উদ্ধার করতে পুলিশ সদস্যটি নিজেও ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে তার জীবন রক্ষা করেন।
পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে পৌর এলাকার শিমরাইল সেতুর নিকটবর্তী স্থানে এই ঘটনা ঘটে। ২৪ বছর বয়সী ওই নারী বিবাহিত ছিলেন এবং অভিমান থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পুলিশ সদস্য অমিত, যিনি ঘুরতে বের হয়েছিলেন, ওই নারীকে ঝাঁপ দিতে দেখে তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ান। স্থানীয়রা কনস্টেবল অমিত হাসানের সাহসিকতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মেয়েটির পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজনের জীবন রক্ষা করেছেন।
পুলিশ এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ওই নারী শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন।
এটি দেখতে পেয়ে, পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসান, তার এক ব্যাচমেটকে সঙ্গে নিয়ে ঝাঁপ দেন। সাঁতরে তিনি ওই নারীকে উদ্ধার করেন এবং পরে একটি নৌকার সাহায্যে তাকে নদীর পারে এনে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী জানান, এক নারী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর কনস্টেবল অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে লাফিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান এবং তার চিকিৎসার খোঁজ নেন।
ওই নারীর মা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমাদের এক পুলিশ সদস্য পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টায় তাকে তার মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন