প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলা সদর উপজেলার আলোচিত কিশোর রেদোয়ান রাসেল হত্যা মামলায় আদালত দুই আসামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সুজন এবং তার মামা মো. ইলিয়াস। ২০০৭ সালে মোবাইল বিক্রি না করায় কিশোরটিকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৯ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের আদালতে এই রায় প্রদান করেন।
আদালত ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোর রেদোয়ান রাসেল তার বাবার হাওলাদার বাজারের মুদি দোকানে অবস্থান করছিল। তার কাছে মায়ের কেনা নোকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী সুজন তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলার কথা বলে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রেদোয়ান নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবার ধারণা করেছিল, সে হয়তো নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে গেছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সে কারো বাড়িতে যায়নি। নিখোঁজের পরদিন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। ঘটনার দুই দিন পর ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, দক্ষিণ চরপাতা দারোগার খালের পাশে সিদ্দিক মালের বাড়ির সামনে এক কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা রেদোয়ানকে শনাক্ত করেন। মরদেহের মুখ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেদোয়ানের বাবা আব্দুল হক বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাগণ সুজন ও ইলিয়াসকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৯ সালের ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. তৈয়ব বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছি। সামান্য একটি মোবাইলের জন্য হত্যাকাণ্ড—এটি সামাজিক অবক্ষয়ের নমুনা ও নির্মম হত্যাকাণ্ড এটি। ভুক্তভোগীকে গলা টিপে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দিয়েছিল আসামিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন