প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রায় ১৫ বছর আগে শিরিনা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার। বিয়ের অন্তত ১২বছর পর দুটি মেয়ে সন্তান জন্ম হয় তাদের। সন্তান জন্মের কিছু দিন পর পরিবারের সুখের আশায় লিবিয়া হয়ে সাগড় পথে ইতালি যান রমজান মিয়া।
কিন্তু এই সুযোগে স্ত্রী শিরিনা আক্তার একাধিক যুবক ছেলেদের টার্গেট করে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ স্বামী রমজান মিয়ার।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শহরের আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় পরকীয়ার অভিযোগে শিরিনা আক্তারের নিজ বাসায় পরকীয়া প্রেমিক মাদকের ডিলারখ্যাত মোবারক হোসেন নয়নসহ তাদের দুজনকে আটক করে সাধারণ জনতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবারক হোসেন নয়ন কালিকাপ্রসাদ এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি। মাদক মামলায় গাজীপুরসহ সে একাধিকবার কিশোরগঞ্জ কারাগারে গিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
পরে ৯৯৯-এ কল করলে ভৈরব থানার এসআই শাখাওয়াত হোসেন ও এসআই শক্তি পদ মৃধা পুলিশ ফোর্স নিয়ে এসে নয়ন ও শিরিনাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচশতাধিক স্থানীয় নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। নয়ন ও শিরিনাকে পুলিশ হেফাজতে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হলে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হন বলে স্থানীয়রা জানান।
পরকীয়ায় অভিযুক্তরা হলেন, ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামের তাফালী বাড়ির সাত্তার মিয়ার ছেলে মাদকের ডিলারখ্যাত মোবারক হোসেন নয়ন এবং কালিকাপ্রসাদের এমাদ মিয়ার কন্যা ও আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার স্ত্রী শিরিনা আক্তার।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার পিতা ওয়াজ মিয়া অভিযোগ করেন, প্রায় সময়ই বাড়ির ভেতর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যুবকদের নিয়ে আসে শিরিনা আক্তার। তাকে জিজ্ঞেস করলে আত্মীয় পরিচয় দেয়। কিন্তু আমাদের সন্দেহ ছিলো দীর্ঘদিন ধরে সে পরকীয়ায় লিপ্ত। আরও কয়েকটি পরকীয়ার ঘটনাও সে ঘটিয়েছে, দরবারও হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে কালিকাপ্রসাদের মাদক ব্যবসায়ী নয়ন নামে একজনকে তাঁর মামাতো ভাই পরিচয়ে (আত্নীয় সাজিয়ে) বাসায় নিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজন এসে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করার পর তারা ফোন করে পুলিশ নিয়ে আসে। পুলিশ এসে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। এঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত শিরিনা আক্তারের দাবি, আমরা সবাই একসঙ্গে বিয়ে খেতে যায়। রাতে আমার ভাই নয়ন কালিকাপ্রসাদ থেকে মোটরসাইকেলে করে আমাকে বাসায় নামিয়ে দেয়। পরে আমি তাকে বলি ভেতর এসে অন্তত পানিটা খেয়ে যেতে। কিন্তু আমার ভাই ঘরে আসতে চাইনি। তখন একজন যুবক এসে আমার ভাইকে মাথায় থাপ্পড় মারে। আমার উকিল শ্বশুর দ্বীন ইসলাম সহ ভেতরে রেখে বাহিরে তালা মারে। আমরা তখন রুমের ভেতরে চলে আসি। শিরিনা আরও বলেন, ১০ লাখ টাকা এনে আমি আমার স্বামীকে ইতালি পাঠাইছি। কিন্তু সে আমার সঙ্গে পলটি নিয়ে কোন টাকা পয়সা দেয়না আমাকে। নাদিম নামে এলাকার এক ছেলেকে নিয়ে আমাকে আকথা কুকথা বলে। নয়নের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি তাঁর।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন নয়নের দাবি, সকালে উঠে আমরা কটিয়াদিতে যায় বিয়ে খেতে। সঙ্গে আমার স্ত্রী, শ্বশুর শ্বাশুড়ি সবাই ছিলো। সেখানে আপাকে নিয়ে আমরা স্পীড খাই, সেলফি তুলি। রাতে শিরিন আপাকে নিয়ে তার বাসা আমলাপাড়ায় মোটরসাইকেলে নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে আটক করে। আপা আমার আপন চাচাতো বোন হয়। আপার সঙ্গে পরকীয়া হলে আল্লাহর গজব পড়বো। বাসার বাহির থেকে আমাদেরকে ভেতরে আটকে রেখে মারধর ও গালিগালাজ করে।
মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি ইন্টারনেট ব্যবসা করি কালিকাপ্রসাদ চকবাজারে। আমি মাদকের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়া ম্যাসেঞ্জারে জানান, তাঁর স্ত্রী একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে। ভিডিও করেও বলেছে আমাকে তালাক দিয়ে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করবে। এর আগেও এক ছেলেকে নিয়ে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে ঘুরতে গিয়ে সেলফি তুলেছে। তিনি প্রশাসনের নিকট এসব অনৈতিক ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ৯৯৯-এ সংবাদ পাই আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় পরকীয়া সংক্রান্ত ঘটনায় আটক করা হয়েছে। মব সৃষ্টি করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে আমি পুলিশ পাঠায় ঘটনাস্থলে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন