প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনা নিয়ে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, “শাকিল হত্যার বিচার হতেই হবে এই বাংলার মাটিতে। কাউকে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তার সাজা হতে হবে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না হয়, সে চেষ্টা থাকবে আমাদের।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “হত্যার ঘটনায় কোনো ভাঙচুর করা যাবে না। আমি শাকিলকে ঢাকায় হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। আজ কবর জিয়ারতের সময় ওর মুখটিই বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নাটোর জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে নিহত শাকিলের বাড়িতে যান প্রতিমন্ত্রী পুতুল। এ সময় তার সাথে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী ও মিজানুল হক ডিউক, জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শাকিল হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর জড়িত থাকার অভিযোগে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। ইতোমধ্যে মামলাটি থানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজন মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার কারণে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
শাকিলের স্বজনদের অভিযোগ, হামলার পর ১২ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ শুরুতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি এপ্রিল মাসে জীবননাশের আশঙ্কায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) নথিও থানা থেকে গায়েব হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাকিলের মা-বাবা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো উত্তপ্ত রয়েছে এলাকা।
নিহত শাকিলের বাবা রবিউল বলেন, আমি আমার ছেলে হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই। কিন্তু পুলিশ আমার দেওয়া আসামিদের মূল নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা নিয়েছে। এ কারণে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে চরম শঙ্কায় আছি।
কবর জিয়ারতের আগে ও পরে শাকিল হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় “শাকিল কবরে, খুনি কেন বাইরে?”, “প্রশাসন নীরব কেন? জবাব চাই, দিতে হবে”—ইত্যাদি স্লোগানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
উল্লেখ, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে শাকিলের ওপর হামলা চালায় হেলমেট পরা একদল দুর্বৃত্ত। তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন