প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার মেঘনা নদীর ভাঙনকবলিত অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছে। একই সঙ্গে, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের শুনানি শেষে রুলসহ এ আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ও ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকন।
শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকন মন্তব্য করেন, "ভোলা একটি গ্যাসে পরিপূর্ণ জেলা। সেখানে প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। এটি সম্পূর্ণ নদীবেষ্টিত এলাকা। বর্তমানে সেখানে হাজার হাজার ড্রেজার বসিয়ে ভোলার মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমি ওই জেলার একজন সচেতন বাসিন্দা ও আইনজীবী হয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারি না।"
তিনি আরও বলেন, "অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই পরিবেশ ও জনস্বার্থে আমি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করি। সেই রিট আবেদনের শুনানি শেষে উচ্চ আদালতের যৌথ বেঞ্চ আজ রুলসহ এই নির্দেশনামূলক আদেশ দেন।"
রিট আবেদনকারী জানান, ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মৌজায় মেঘনা নদীর তীরে প্রায় ৩৯ দশমিক ৪৯ একর জমিতে অবস্থিত 'মেঘনা বালুমহাল-৩ ও ৪' ইজারা দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে এবং এর ভিত্তিতে ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু, চুক্তি সম্পাদনসহ গৃহীত সব কার্যক্রম বাতিল ও স্থগিতের দাবিতে এই রিট দায়ের করা হয়।
রিট আবেদনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলার মনপুরা উপজেলা বাদে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভোলা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি), ওয়াদুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জামিল হোসেন ওয়াদুদ এবং মহিষা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শহীদসহ মোট ১৫ জনকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উচ্চ আদালতের আদেশে ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আলোচিত মেঘনা বালুমহাল দুটি থেকে অবিলম্বে সব ধরনের বালু উত্তোলন বন্ধের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর বিবাদীকে (বিআইডব্লিউটিএ এবং বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার) একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে মেঘনা নদীর সঠিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিপের মাধ্যমে বালুমহাল গেজেট থেকে অস্তিত্বহীন 'মেঘনা বালুমহাল-৩ ও ৪' স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, তীব্র নদীভাঙন থেকে ভোলা জেলাকে রক্ষা করতে নদী থেকে সব ধরনের ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি অবিলম্বে অপসারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়োজিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন