প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিতর্কিত সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বড়সড় ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। মূলত ফিফা বিশ্বকাপসহ অন্যান্য মেগা টুর্নামেন্টের মালিকানার অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনার কারণে উয়েফা ক্ষুব্ধ হয়েছে।
বিবিসি স্পোর্টসের হাতে আসা নথিপত্র অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও নথিপত্র সংগ্রহের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনা’র চরম অভিযোগ তুলেছে। শুধু ইনফান্তিনো নয়, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই।
ইনফান্তিনো ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরির প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ ছিল বিশ্বকাপের মতো ফিফার সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর শেয়ার বা স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া। তবে ফুটবল বিশ্বের তীব্র প্রতিবাদ ও তোলপাড়ের মুখে শেষ পর্যন্ত ফিফা সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়।
আদালতে পেশ করা উয়েফার নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ‘প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল ইনফান্তিনো ও তার ঘনিষ্ঠ একটি ছোট চক্রের নিজস্ব মুনাফা লোটার কৌশল।
ফিফা, এর সদস্য এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যান্য অংশীদারদের বিপুল ক্ষতি করে ফিফার সবচেয়ে দামি সম্পদগুলো স্থায়ীভাবে নিজেদের আয়ত্তে নেওয়ার জন্যই এই ফাঁদ পাতা হয়েছিল।’
উয়েফা আরো দাবি করে, ‘তড়িঘড়ি করে ডাকা এক মিটিংয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে নিজের এই কোটি কোটি ডলারের বিতর্কিত প্রস্তাবটি অনুমোদন করিয়ে নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। সেখানে উপস্থিত অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই পরিকল্পনার নাম আগে কখনো শোনেনইনি।’
এদিকে মোনাকোতে গরকাল রাতে আয়োজিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন উয়েফা ও ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ কর্তারা। সেখানেও মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ইনফান্তিনো।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, ‘উপস্থিত সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে উয়েফা সভাপতি ও প্রশাসনকে সর্বাত্মক আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। সভাপতির ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার আনয়ন এবং ফিফাকে কোনো ব্যক্তিবিশেষের সম্পত্তি না বানিয়ে একটি সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সব ধরনের পথ অবলম্বন করা হবে।’
মহাবিপদে পড়া জিয়ানি ইনফান্তিনো ও ফিফা কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন