প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁ, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চলতি মৌসুমে বৃষ্টির সঠিক সময়ে হওয়া এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সোনালি আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, খরিপ-১ মৌসুমে উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য আশাতীত হওয়ায় জেলার কৃষকরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন।
বিগত ৫ বছর ধরে পাট চাষের পরিমাণ কমে গেলেও এই বছর ভালো দাম, সরকারি প্রণোদনা এবং পাটের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহারের কারণে কৃষকরা আগামী মৌসুমে পাট চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৫,৭২৫ হেক্টর জমিতে, যার ফলস্বরূপ উৎপাদন হয়েছিল ১৫,৫৬০ মেট্রিক টন পাট। পরবর্তী মৌসুমে, ২০২২-২০২৩ এ পাটের আবাদ হয়েছিল ৫,৩৩০ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন ১৪,৬৫০ মেট্রিক টন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে পাটের আবাদ হয়েছে ৪,৫৬০ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন ১২,৭১০ মেট্রিক টন। ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে আবাদ হয়েছিল ৩,৫৫০ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন ৯,৯৬৫ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে পাটের আবাদ হয়েছে ৩,১৭০ হেক্টর জমিতে, সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮,৯৪০ মেট্রিক টন পাট।
এখন পর্যন্ত জেলার কৃষকরা জমি থেকে পাট কেটে জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে শুকিয়ে বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা সন্তুষ্ট।
জেলার বিভিন্ন বাজারে শুকনা পাটের প্রতি মণ মূল্য ৩ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। প্রতি বিঘা পাট চাষে জমি চাষ, বীজ, সার পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেয়া, ধোয়া এবং শুকাতে গড়ে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা থেকে ১৭ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি নিট লাভ হচ্ছে ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা।
গত ৫-৬ বছরের মধ্যে পাট চাষ করে কৃষকরা এ বছরই সবচেয়ে ভালো লাভ অর্জন করছেন। পাট যে সোনালি আঁশ, সেই ধারণা আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক পাট ফলনের মাধ্যমে।
বদলগাছী উপজেলার কাষ্টডোব গ্রামের কৃষক মোবারক আলী শঙ্কা নিয়ে এ বছর ১ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তিনি বাসস’কে জানান, সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। তার এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে ১২ মণ, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার নিট লাভ হয়েছে ৩১ হাজার টাকা।
মান্দা উপজেলার বড় বেলালদহ গ্রামের আজিমুদ্দিন কাজী ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি মোট পাট পেয়েছেন ২২ মণ। ৪ হাজার টাকা দর হিসেবে তার পাটের মোট বাজারমূল্য ৮৮ হাজার টাকা। ২ বিঘা পাটের আবাদ করতে মোট খরচ হয়েছে ৩২ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে তিনি দুই বিঘা জমিতে নিট মুনাফা করেছেন ৫৬ হাজার টাকা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮শ’ জন কৃষকের প্রত্যেককে ২৩০ টাকা মূল্যের ১ কেজি করে বীজ, ৯৫ টাকা মূল্যের ৫ কেজি ডিএপি সার, ৯০ টাকা মূল্যের ৫ কেজি এমওপি সার, পরিবহন বাবদ নগদ ১৬.৫০ টাকা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষককে ৪৪২.৫০ টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সেই হিসেবে চলতি মৌসুমে পাট চাষিদের ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ’র উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বাসস’কে বলেন, কৃষি বিভাগ পাটকে আবার সোনালি আঁশ হিসেবে সুপরিচিত করতে পাট চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। এ প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৮শ’ জন পাটচাষিকে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ পরিবহন খরচ ও আনুষাঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন