প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি টোকিওর বিতর্কিত ইয়াসুকুনি শ্রাইন পরিদর্শন এড়িয়ে গেছেন। মূলত চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক যেন আরও খারাপ না হয়, সেই কারণেই তিনি এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তবে, অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর ভাষণে তাকাইচি এশিয়ায় জাপানের অতীতের যুদ্ধ বা সেই সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো ধরনের দুঃখ প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি, মন্ত্রিসভার তিন সদস্য এবং তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির তিন নির্বাহী শনিবার সকালে ওই মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সেখানে অর্থও দান করা হয়েছে।
ইয়াসুকুনি শ্রাইনে মূলত যুদ্ধে নিহত ২৪ লাখেরও বেশি মানুষের স্মৃতি জড়িত। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ১৪ জন দণ্ডিত জাপানি যুদ্ধাপরাধীকে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই এটি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতে, জাপানি কর্মকর্তাদের এই মন্দির পরিদর্শন মূলত যুদ্ধের সময় জাপানের চালানো ভয়াবহ নৃশংসতার প্রতি অনুশোচনাহীনতারই প্রমাণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এবং চলাকালীন, জাপান এশিয়ার একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। সেসময় সেখানে হত্যা, জোরপূর্বক শ্রম এবং নারীদের যৌনদাসী বানানোর মতো ঘটনা ঘটে।
এই পরিদর্শনের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা একে ইতিহাস বিকৃতি এবং সামরিকায়নের পথে প্রশস্ত করার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টিকে ‘ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞা’ বলে সমালোচনা করেছে। তবে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং তার দেশের মুক্তির ৮১তম বার্ষিকীর ভাষণে কিছুটা নমনীয় থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি ‘বাস্তববাদী কূটনীতি’র ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, এখন জাপান-কোরিয়া সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।
১৯৭৮ সালে যুদ্ধাপরাধীদের যুক্ত করার পর থেকে জাপানের সম্রাটরা এই মন্দির এড়িয়ে চলছেন। শনিবারের অনুষ্ঠানে সম্রাট নারুহিতো অতীতের কথা স্মরণ করে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা যেন আর না ঘটে সেই আশা ব্যক্ত করেন। তবে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি কখনোই জাপানের অতীত আগ্রাসনের দায় নিতে রাজি হননি। তাঁর মতে, তিনি যুদ্ধপরবর্তী প্রজন্মের এবং অতীতের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন