প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একসময়ের এশিয়ার শীর্ষ ধনী এবং চীনা আবাসন খাতের পরাশক্তি এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হুই কা ইয়ানের জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। চীনের শেনঝেন শহরের একটি আদালত ৬৭ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীকে আর্থিক জালিয়াতি, তহবিলের অপব্যবহার এবং অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। আদালত সাজা ঘোষণার সময় তাঁর সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছে।
কিছু বছর আগে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২১ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদ্ভব অনুষ্ঠানে তৎকালীন কোটিপতি হুই কা ইয়ানকে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে হাসিমুখে সিনিয়র নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা গ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল। অনেকেই তখন এটা সরকারের পক্ষ থেকে তার ব্যবসার প্রতি সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে, দীর্ঘ তিন বছর আটক থাকার পর, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে হলো এই শিল্পপতিকে।
হেনান প্রদেশের এক সাধারণ গ্রামীণ পরিবারে জন্ম নেওয়া হুই কা ইয়ান, বড় হয়েছিলেন তাঁর দাদির কাছে। তিনি একসময় ইস্পাত কারখানার টেকনিশিয়ান ছিলেন এবং পরে আবাসন খাতের সম্রাট হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান এভারগ্র্যান্ড ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দ্রুত দেশটির বৃহত্তম আবাসন কোম্পানি হয়ে ওঠে। ব্যাপক পরিমাণ ঋণ নিয়ে জমি কিনে এবং তুলনামূলক কম দামে দ্রুত ফ্ল্যাট বিক্রি করে এভারগ্র্যান্ড ২০২০ সালে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৭ সালে ফোর্বসের তালিকায় ৪৫.৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে তিনি এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তকমাও অর্জন করেন।
কিন্তু অতিরিক্ত ঋণনির্ভর ব্যবসায়িক মডেল এই প্রতিষ্ঠান এবং হুই কা ইয়ানের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণে জর্জরিত এভারগ্র্যান্ড ২০২১ সালে তাদের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে, হংকংয়ের আদালতের নির্দেশে কোম্পানিটি অবসায়নের প্রক্রিয়ায় চলে যায়। ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বাঁচানোর জন্য ইলেকট্রিক গাড়ি ও ফুটবলের মতো চীনা সরকারের পছন্দের প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি হুই।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, হুই কা ইয়ানকে আর্থিক বিবরণীতে কারচুপি, শেয়ারবাজারে প্রতারণা এবং জনস্বার্থের চরম ক্ষতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদিকে, এভারগ্র্যান্ড গ্রুপকে প্রায় ১.৩১ বিলিয়ন ডলার এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। দেশের আবাসন সংকটের মাঝখানে কোটি কোটি সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির এই ট্র্যাজিক অধ্যায় হুই কা ইয়ানকে নিয়ে গেল কারাগারের অন্ধপ্রকোষ্ঠে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন