প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন চর যমুনা ৫ নং ওয়ার্ডে বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বিধবা অসহায় নারী ও তার ছেলেকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বাবুল গংদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বাবুল নামের এক ব্যক্তি,তার স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী ও পুরুষের বিরুদ্ধে দুলার হাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী জসিমের অভিযোগ করে বলেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়।এ সময় তার বিধবা মাকে বাবুলের স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী টেনেহিঁচড়ে কাদার মধ্যে ফেলে বেধড়ক মারধর করার সময়,আমি মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমাকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় নুরুল হক,মোস্তফা, ইসমাইল, রুহুল আমিন, আমির, মাসুদ ও ফারুকসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিবারের কয়েকজন নারীও ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি,হামলাকারীরা দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন। এতে বিধবা মা ও তার ছেলে উভয়েই আহত হন বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী জসিম আরো জানান,জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় এর আগেও ২০২২ সালে মামলা করা হয়েছিল। মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধীন ছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে তারা বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে সম্প্রতি ওই জমি নিয়ে আবারও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ জসিমের। তার দাবি, কয়েকদিন আগে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন আলামিন তাকে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। কী কারণে স্বাক্ষর করতে হবে, তা তিনি বুঝতে না পারায় স্বাক্ষর করতে আপত্তি জানান।
জসিমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তাকে সকালে থানায় আসতে বলা হয় এবং বিকেলে দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় বসার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে সকালে তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং জমি সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী জসিম বলেন, “আমি একজন দিনমজুর অসহায় মানুষ,আমার মাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে। আমি মাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। জমির কাগজে কেন স্বাক্ষর করতে হবে, সেটা না বুঝে আমি স্বাক্ষর করতে চাইনি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, বন্দোবস্ত জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি একজন বিধবা নারী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত বাবুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে রাগান্বিত হয়ে ফোন কেটে দেন,পরে পুনরায় তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওসি ইয়াসিন আলামিন বলেন,অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন