প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিল্লির ক্যালকাজি মন্দিরের নিকটবর্তী আস্থা কুঞ্জ পার্কে গত সোমবার সন্ধ্যায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর লেডি শ্রী রাম (এলএসআর) কলেজ আগামী বুধবার পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এই কলেজটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার দুপুর থেকেই নিয়মিত পাঠদান বন্ধ করে দেয়। একইসাথে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মীদের ক্যাম্পাসের পেছনের গেট সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ গত মঙ্গলবার এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাঁড়াশি অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধের ফলে এক অভিযুক্ত আহত হয়। এলএসআর-এর অধ্যক্ষ কণিকা কে. আহুজা জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কলেজ অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নেয়।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, "এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা সরাসরি ক্লাস স্থগিত করি। আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায়।" তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং পুরো ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় টহল বাড়ানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছে।
বিশেষ করে অমর কলোনি থানা পুলিশকে ক্যাম্পাসের পেছনের গেট, পাশের গলি এবং পার্কগুলোতে টহল জোরদার করার জন্য আবেদন জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মানসিকভাবে সহায়তা করার জন্য শিক্ষক ও পরামর্শকেরা সার্বক্ষণিক পাশে থাকবেন বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এলএসআর স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি অনুশা গর্গ বলেন, শিক্ষার্থীদের চলাচলের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান শনাক্ত করা জরুরি, শুধুমাত্র ধরাবাঁধা সতর্কবার্তা জারি করে বসে না থেকে। তিনি উল্লেখ করেন, "নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাঁধাধরা নীতি থেকে বেরিয়ে এলাকাভিত্তিক নিবিড় নিরাপত্তা নিরীক্ষা (সেফটি অডিট) চালানো প্রয়োজন।"
শিক্ষার্থীরা মেট্রো স্টেশন, বাস স্টপ, পিজি (মেস) এবং বাজার এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য যেসব পথ ব্যবহার করেন, সেগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া সড়কবাতি, স্পষ্ট দৃশ্যমানতা, গণপরিবহন সুবিধা, জরুরি সহায়তা সেবা এবং পুলিশের নজরদারি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
সার্বিক পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশের সাথে যোগাযোগ রেখে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে কলেজ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন