প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজার শিশুদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঘুড়ি উড়ানোর একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তিন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, এক নারী স্বেচ্ছাসেবীকে পরোয়ানা ছাড়াই দীর্ঘ সাড়ে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গৃহবন্দী রেখে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠেছে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে। এই তথ্যটি ‘ইন্ডিয়ান পিপল ইন সলিডারিটি উইথ ফিলিস্তিন’ (আইপিএসপি) একটি বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি মুম্বাইয়ের কিছু সক্রিয়কর্মী গাজার শিশুদের সমর্থনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ‘গ্লোবাল গাজা কাইট উইকএন্ড’-এ অংশগ্রহণ করেছিলেন।
আইপিএসপি অভিযোগ করেছে, প্রথমে সাধারণ পোশাক পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হর্ষদা নামের এক নারী স্বেচ্ছাসেবীর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখেন। পরে পোশাকধারী পুলিশ এসে কোনো ধরনের পরোয়ানা, লিখিত নোটিশ বা আইনি কাগজপত্র ছাড়াই তার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় তার বেশ কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
সংগঠনটি জানিয়েছে, ঘুড়ি উড়ানোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্য দুই স্বেচ্ছাসেবীকেও পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। রাত ২টা ১৫ মিনিটে দেওয়া এক আপডেট বার্তায় আইপিএসপি জানায়, অভিযান শুরু হওয়ার ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ সদস্যরা হর্ষদার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
আইপিএসপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন। তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "একটি শিশুর ঘুড়ি উড়ানো যদি ইসরায়েলি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়, তবে গাজার শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতীয় তরুণদের ঘুড়ি উড়ানোও কি ভারতীয় রাষ্ট্রের জন্য হুমকি?"
নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনা করে সংগঠনটি অভিযোগ করে, ব্রিকস সম্মেলনে ভারত সরকার মুখে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার কথা বললেও বাস্তবে দেশের ভেতরের ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। মুখে মানবিক উদ্বেগের কথা বললেও ভারতের প্রকৃত অবস্থান ইসরায়েল ও আমেরিকার পাশেই রয়েছে বলে তারা দাবি করে।
পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আইপিএসপি আরও জানায়, "ভয় দেখিয়ে দমানোর এই চেষ্টা আমাদের ঐক্যকে আরও মজবুত করবে। মুম্বাই পুলিশের বোঝা উচিত—রাষ্ট্রের দমনপীড়ন যতই বাড়বে, আমাদের প্রতিরোধ তত শক্তিশালী হবে।" পুলিশের এই বেআইনি আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন কণ্ঠস্বর ও সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের এমন "ডাইনি শিকার" বা হয়রানি বন্ধে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন