প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা যদি একীভূত হয়, তাহলে ইলন মাস্কের ওপর দুই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে, সম্ভাব্য এই একীভূতকরণের ফলে টেসলার শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত সর্বাধিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক প্যাকেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কাছে আসবে না। বরং, চুক্তির শর্তাবলী এবং কোম্পানির বাজারমূল্যের ওপর নির্ভর করবে তিনি কতটুকু আর্থিক সুবিধা পাবেন।
সম্প্রতি মাস্ক জানিয়েছেন, স্পেসএক্স এবং টেসলার পরিচালনা পর্ষদ সম্ভাব্য একীভূতকরণের বিষয়ে আলোচনা করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। যদি চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে টেসলায় নির্ধারিত পারিশ্রমিক পরিকল্পনার সব লক্ষ্য পূরণ না করেও কোম্পানিটির ওপর তার ভোটাধিকার বৃদ্ধি পেতে পারে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্পেসএক্সের শেয়ার কাঠামো শুরু থেকেই মাস্ককে বড় ধরনের ভোটাধিকার দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ শ্রেণির কিছু শেয়ারে সাধারণ শেয়ারের তুলনায় ১০ গুণ ভোটাধিকার রয়েছে। এই কাঠামোর কারণে স্পেসএক্সে প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোটাধিকার তার হাতে রয়েছে।
বার্কলেসের বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যদি স্পেসএক্স টেসলাকে অধিগ্রহণ করে, তাহলে নতুন কোম্পানির প্রায় ৩৭ শতাংশ মালিকানা মাস্কের থাকতে পারে। তবে, ভোটাধিকার হতে পারে প্রায় ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ, মালিকানার অংশের তুলনায় কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রভাব বেশি থাকতে পারে।
অন্যদিকে, টেসলায় মাস্কের পারিশ্রমিক পরিকল্পনা ভিন্ন। ২০২৫ সালে শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য সর্বাধিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছেন। তবে এই সুবিধা পেতে হলে কোম্পানির বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট পরিচালনাগত লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। এখন পর্যন্ত তিনি ওই পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেননি।
একীভূত হলে কীভাবে শেয়ার পেতে পারেন মাস্ক
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সম্ভাব্য একীভূতকরণের ক্ষেত্রে টেসলার পারিশ্রমিক চুক্তির ‘চেঞ্জ ইন কন্ট্রোল’ বা নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনসংক্রান্ত শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই শর্তের আওতায় নির্দিষ্ট বাজারমূল্যের লক্ষ্য পূরণ হলে পরিচালনাগত কিছু লক্ষ্য অর্জন না করেও মাস্ক শেয়ার পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
বর্তমানে টেসলার বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। একীভূতকরণের সময় কোম্পানির বাজারমূল্য অন্তত ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে হবে, যাতে মাস্ক কোনো শেয়ার পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য হন। এই লক্ষ্য পূরণ হলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের টেসলা শেয়ার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত মূল্য এর চেয়ে কম হতে পারে, কারণ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পারিশ্রমিক পরিকল্পনা ঘোষণার পর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির হিসাবও বিবেচনায় আসবে।
অর্থাৎ, একীভূতকরণ হলেই মাস্কের হাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার চলে আসবে না। বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং চুক্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে তার সম্ভাব্য শেয়ারপ্রাপ্তি।
স্পেসএক্সের পারিশ্রমিক পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
স্পেসএক্সের পারিশ্রমিক পরিকল্পনায় একীভূতকরণের পর কী ঘটবে, তা টেসলার চুক্তির মতো স্পষ্ট নয়। ফলে, সম্ভাব্য চুক্তির পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ মাস্কের পারিশ্রমিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্পেসএক্সের পরিকল্পনায় মঙ্গলে ১০ লাখ মানুষের বসতি গড়ে তোলা এবং মহাকাশে বিশাল কম্পিউটিং সক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার তৈরির মতো উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য রয়েছে। এসব লক্ষ্য পূরণ না হলে বরাদ্দ করা শেয়ারের আর্থিক সুবিধা পাবেন না মাস্ক। তবে শেয়ারগুলোর ভোটাধিকার তার হাতে রয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকুইলারের হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের লক্ষ্য পূরণ হলে মাস্কের পারিশ্রমিক পরিকল্পনায় থাকা শেয়ারের মূল্য ৭১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্শাল স্কুল অব বিজনেসের অর্থনীতির অধ্যাপক কেভিন মারফির মতে, একীভূতকরণের পর দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ চাইলে নতুন কোম্পানির আকার বিবেচনায় বাজারমূল্য ও আয়ের লক্ষ্য এবং শেয়ার পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।
মাস্ক, টেসলা এবং স্পেসএক্স এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
উল্লেখ্য, স্পেসএক্স এবং টেসলা একীভূত হলে মাস্কের ভোটাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে। তবে টেসলার অনুমোদিত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক প্যাকেজ পুরোপুরি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। একীভূতকরণের শর্ত, কোম্পানির বাজারমূল্য এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত তিনি কতটা আর্থিক সুবিধা পাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন