প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও তার অনুগত একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির খবর আড়াল করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপচেষ্টা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় শিক্ষক সমাজ। দুর্নীতি ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ধামাচাপা দিতে না পেরে সত্য প্রকাশকারী শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের চরিত্রহনন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
গত ১৪ সেপ্টেম্বরের ওই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে চরফ্যাশন উপজেলার সর্বস্তরের প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও বিভিন্ন নথিপত্র তুলে ধরে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কারচুপির নানা তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে প্রকাশ করেন। তাদের উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ভুয়া বরাদ্দ ও মেরামত বিল: ১৬৮ নম্বর দক্ষিণ চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ ও মেরামত খাতে দুই বছরে তিন দফায় মোট ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে আত্মসাৎ এবং ওয়াই-ফাই সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকার ভুয়া বিল পাস।
ঘুষ বাণিজ্য ও ভাউচার জালিয়াতি: ৪২টি বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র সংস্কারের টাকা আটকে রেখে ৬% হারে (প্রতিটি থেকে ৯ হাজার টাকা) ঘুষ আদায় এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের ৯০ হাজার টাকার বিশেষ ডিভাইস ক্রয় না করে ভুয়া ভাউচারে পুরো টাকা উত্তোলন।
শিক্ষকদের হয়রানি: প্রাক-প্রাথমিক সজ্জিতকরণ বিল (৭,৫০০ টাকা) থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৫০০ টাকা আদায় এবং হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার এরিয়া বিল অহেতুক আটকে রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনে শিক্ষা কর্মকর্তা এসব সুনির্দিষ্ট দাপ্তরিক কারচুপির কোনো সদুত্তর না দিয়ে ঢালাওভাবে অস্বীকার করছেন। এছাড়া দুর্নীতির প্রতিবাদকারী জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মুখ বন্ধ করতে এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সরাতে আঃ হাই খান, আঃ হাই হাওলাদার ও শফিকুর রহমানসহ সম্মানিত প্রধান শিক্ষকদের ‘ফ্যাসিস্ট’ ট্যাগ দিয়ে চরিত্রহনন করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে কোনো শিক্ষক রাজনীতির সাথে প্রকাশ্যে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানানো হয়।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, যারা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তারা মূলত স্কুলের পাঠদান ফাঁকি দিয়ে শিক্ষা অফিসে তদ্বির ও দালালি বাণিজ্যে লিপ্ত। সাধারণ শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও তার সিন্ডিকেটের আত্মসাৎকৃত সব খাতের (ভোটকেন্দ্র মেরামত, ইন্টারনেট বিল, বিশেষ ডিভাইস ও জরুরি মেরামত) উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
২. সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা রাজনৈতিক অপবাদ ও হয়রানিমূলক অপপ্রচার অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. ভুয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎকারী ও শিক্ষকদের চরিত্রহননকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে উপকূলীয় অঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষকদের সম্মান পুনরুদ্ধারে চরফ্যাশনের সর্বস্তরের শিক্ষক সমাজকে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি চরফ্যাশন উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন মমিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হাই হাওলাদার, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল হাই খান, সাধারণ সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ, সংগঠনের নেতা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, মোহাম্মদ ফুয়াদ, হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনির উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন