প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ইয়াবা সেবনের দায়ে তোফায়েল মিয়া (২৬) নামের এক যুবককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এই খবরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো—ছেলের মাদকাসক্তির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে নিজ ছেলেই যেন সুপথে আসে, সেজন্য খোদ তার বাবাই ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার কঠোর শাস্তি দাবি করেছিলেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার। দণ্ডপ্রাপ্ত তোফায়েল মিয়া ওই গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার তোফায়েল মিয়াকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয় গ্রামবাসী। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তার বাবা খোকা মিয়া উপস্থিত হয়ে আদালত ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান, তার ছেলেকে যেন কয়েক মাসের জন্য কারাগারে রাখা হয়, যাতে সে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
যা বললেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট:
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ইউএনও সকিনা আক্তার জানান, "মাদকাসক্ত তোফায়েলের যন্ত্রণায় তার পরিবার পুরোপুরি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গ্রামের লোকজন তাকে আটক করার পর তার বাবা নিজেই তাকে কয়েক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"
মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "মাদক দেশ ও সমাজের শত্রু। মাদকের কারণে তরুণ সমাজের পাশাপাশি বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুধু মাদকসেবীদের শাস্তি দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, যারা মাদক কেনাবেচা করেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।"
মাদক ব্যবসায়ীদের নাম প্রকাশ:
ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড পাওয়ার পর তোফায়েল মিয়া দাবি করেন, তিনি একা এই অপরাধে ফেঁসে যাবেন না; যারা তাকে মাদকাসক্ত বানিয়েছে এবং এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সবার নাম তিনি ফাঁস করে দেবেন।
এ সময় তিনি বিচারক ও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—বাঘবের গ্রামের কালা মিয়া, সফিক মিয়া, তোতা মিয়া, তাজ্জুদ আলী, শাহাব উদ্দিন; একই এলাকার আকতাপাড়া গ্রামের এরশাদ মিয়া এবং রতারগাঁও গ্রামের হামিদ মিয়া।
পুলিশের বক্তব্য:
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমদ উল্লাহ ভুইঁয়া বলেন, "মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তোফায়েল নামের এক যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি থানা হাজতে আছেন এবং তাকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে যার জড়িত থাকারই অভিযোগ পাওয়া যাক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন