প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে ফ্রান্সে ৪০০-৫০০টি স্কুল একদিনের জন্য আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এই তথ্য প্রদান করেছেন। খবর বিবিসির
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) এসব স্কুলে পাঠদান ‘পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত’ থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে অথবা ব্যাপক ভাঙচুর ঘটেছে।
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে হাজারো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। শিক্ষার মান এবং স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মনপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ এবং বেশ কিছু স্কুল ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশটির ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ থাকা স্কুলের সংখ্যা শুক্রবারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে তিনি ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে পাঠদান স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন।
জেফ্রে অভিযোগ করেন, ‘উগ্র বামপন্থি কিছু কর্মী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চরম সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভে শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে মোট ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এদিকে আন্দোলনের আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগামীকাল মঙ্গলবারও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ‘কংক্রিট কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
রোববার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেন, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের সমস্যার সমাধানে সরকার আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে ক্লাস চালু রাখা, স্কুলের অবকাঠামো উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও ভালোভাবে সাজানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করা।
এ ছাড়া ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ‘ভ্যান্ডাল-পে’ বিলের পর্যালোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে যারা সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি করবে, তাদেরই সেই ক্ষতির খরচ বহন করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন