প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্লাসরুমে তিনি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাঠদানের কাজের পাশাপাশি গবেষণাগারে নতুনত্বের সন্ধানে প্রযুক্তির জগতে ডুবে থাকেন। তবে শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি সংগীতের জগতে নিজস্ব একটি আলাদা স্থান তৈরি করেছেন। সুরের সঙ্গে তার এই যাত্রা শখের গণ্ডি অতিক্রম করে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. খালিদ হোসাইন জুয়েলের জীবন ব্লাকবোর্ডের নিখুঁত সমীকরণ এবং গিটারের মূর্ছনার এক অপূর্ব সেতুবন্ধের মতো।
শিক্ষকতা, গবেষণা এবং সংগীত— এই তিনটি ভিন্ন জগতকে একত্রে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন তিনি। তবে পরিচয়ের ক্ষেত্রে সংগীতই যেন তার সবচেয়ে বিশেষ পরিচয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত, আবার গায়ক হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। তার একাডেমিক ক্যারিয়ারে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে তিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতকে ফ্যাকাল্টি ফার্ষ্ট হয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক লাভ করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না থেকে ৫জি মোবাইল কমিউনিকেশনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তার গবেষণাপত্রের সংখ্যা ২৮টি।
তবে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি তার মনে ছিলো সুরের প্রতি আকর্ষণ। স্কুলজীবনে গান গাওয়ার শুরু হলেও বন্ধুদের উৎসাহে পেশাদার গায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। কিন্তু সংগীতকে তখনও পেশা হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ হয়নি। শিক্ষকতা শুরু করার পর খ্যাতনামা শিল্পীদের সঙ্গে গান শেখার সুযোগ পান। ফলে শখের গানের সঙ্গে সংগীতচর্চার অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়। প্রথমে কুষ্টিয়ার একটি ব্যান্ডে প্রধান ভোকাল হিসেবে কাজ করলেও ২০১০ সালে পাঁচ বন্ধু মিলে ব্যান্ড ‘নীল’ প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যান্ড মিউজিকের চর্চা শুরু হয়। ‘অপরিচিতা মেয়ে’ ও ‘মাটির ঘর’ নামের মৌলিক গান এবং দেশে দুই শতাধিক কমার্শিয়াল শো নিয়ে ‘নীল’ আজ সমাদৃত। ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় জুয়েলের প্রথম অ্যালবাম ‘স্বপ্নচারী’। গানের প্রতি তার অনুরাগ থেকে চীনের আনহুই প্রদেশের একটি মিউজিক অডিশনে অংশ নিয়ে প্রথম রানারআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
জুয়েলের কাছে গান শিক্ষকতার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং এটি অন্যটিকে সমৃদ্ধ করে। তার মায়ের স্বপ্ন ছিলো ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি একজন ভালো গায়ক হবে। সেই প্রত্যাশা সময়ের সঙ্গে তার নিজের স্বপ্নের সঙ্গেও মিশে গেছে। আজ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক এবং সংগীতশিল্পী। দেশের সংগীতাঙ্গনে ব্যান্ড মিউজিককে অনন্য অবস্থানে দেখতে চান তিনি, একদিকে জ্ঞান এবং অন্যদিকে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। শিক্ষাজীবনের সাফল্য ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা মিলিয়ে গড়ে উঠেছে জুয়েলের পরিচয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন