প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রেফারিং নিয়ে অভিযোগ এবং পাল্টা মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মাদ্রিদ ডার্বিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে পরাজয়ের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল রিয়াল। এরপর তেবাস সেই অভিযোগকে প্রকাশ্যে উপহাস করায় স্প্যানিশ ক্লাবটি তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে।
মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে হারের পর রেফারি অর্তিস আরিয়াস এবং ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রিয়াল। বিশেষ করে জুড বেলিংহামের হাঁটুতে কুতির রোমেরোর পা তুলে দেওয়া এবং ফেদেরিকো ভালভার্দের বাঁ গোড়ালিতে লি কাং-ইনের পা দেওয়ার ঘটনায় লাল কার্ড না দেখানো নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা।
রিয়ালের অভিযোগের পর লা লিগা সভাপতি তেবাস পাল্টা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রেফারিরা পরিকল্পিতভাবে রিয়ালের বিপক্ষে কাজ করছেন—এমন ধারণাকে তিনি উড়িয়ে দেন। তাঁর মতে, মাঠের ব্যর্থতা আড়াল করতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। রেফারিংয়ের দিকে আঙুল তোলার চেয়ে মাঠে কী ঘটছে, সেটির ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন তিনি।
তেবাসের এই বক্তব্য রিয়াল কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানায়, লা লিগার সভাপতি তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ব্যবহার করে নিয়মিত রিয়ালকে হেয় ও আক্রমণ করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্পেনের পেশাদার ফুটবলের জন্য এমন একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি নিরপেক্ষভাবে প্রতিযোগিতা পরিচালনা করতে পারবেন—এমন দাবি জানিয়ে তেবাসের পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে রিয়াল থেকে।
তেবাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে বিশেষভাবে গুরুতর বলেও উল্লেখ করেছে ক্লাবটি। রিয়ালের ভাষ্য, একজন দায়িত্বশীল প্রশাসকের পক্ষে অন্য একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত স্বাধীন সাংবাদিকের লেখাকে কেন্দ্র করে কোনো ক্লাবের ক্রীড়া কৌশল নিয়ে মন্তব্য করা অনুচিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
ডার্বির রেফারিং নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে রিয়াল। ক্লাবটির দাবি, অর্তিস আরিয়াসের বাজে রেফারিংয়ের কারণে ম্যাচটি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। প্রথমার্ধে বেলিংহামের হাঁটুতে রোমেরোর পা দেওয়ার ঘটনায় লাল কার্ড না দেখানো এবং ভালভার্দের গোড়ালিতে লি কাং-ইনের চ্যালেঞ্জের পরও একই শাস্তি না দেওয়ার বিষয়টি আলাদাভাবে তুলে ধরেছে তারা।
ম্যাচের ফলও রিয়ালের জন্য পরিস্থিতি জটিল করেছে। ডিন হুইসেন পেনাল্টি এলাকায় জিউলিয়ানো সিমিওনেকে টেনে ধরায় লাল কার্ড দেখেন। সেখান থেকে পাওয়া পেনাল্টিতে গোল করেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। পরে জোনাথন ডেভিড আতলেতিকোর ব্যবধান বাড়ান। দশজনের দল নিয়ে খেলা রিয়ালের হয়ে শেষ দিকে একটি গোল শোধ করেন আন্তোনিও রুডিগার। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
এই হারের পর লিগের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। অপরাজিত বার্সেলোনা শীর্ষে রয়েছে, আর রিয়ালের ওপরে আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল বেতিসও। বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়ালের ব্যবধান এখন ছয় পয়েন্ট।
ফলে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি রিয়াল-লা লিগা দ্বন্দ্বও নতুন মাত্রা পেয়েছে। কোচ হোসে মরিনিওকে এখন মাঠের বাইরের বিতর্ক সামলে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। একই সঙ্গে ডার্বিতে চোট পাওয়া বেলিংহাম ও ভালভার্দের শারীরিক অবস্থাও নজরে থাকবে। তবে রেফারিং নিয়ে রিয়াল ও লা লিগার নেতৃত্বের এই সংঘাত আপাতত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন