প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনবিরোধী ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের অধীনে একটি মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারাফাত শারিক রোহানকে কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এই আদেশ প্রদান করেন।
রোহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ, যিনি জানান, আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করেছিল কিন্তু আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে রোহানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, আশুলিয়া থানার এসআই মানষ ভদ্র বৃহস্পতিবার রোহানকে আদালতে হাজির করে বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখতে হবে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
রোহান সন্দেহজনকভাবে উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্ট প্রকাশ করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
গত বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জুলাই আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে রোহানকে আটক করে জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ আবু সৈয়দ আশুলিয়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে রোহানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রোহান গেল ৫ আগস্ট ভোর ৪টার সময় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে হল ছাত্র সংসদের নেতারা তাকে আটক করে রাখেন। সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন