প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কারণে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এখনও মেলেনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন
নিখোঁজদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় ট্রলারটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় এক নারী নিহত হন এবং একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ডুবে যাওয়া ট্রলারটি খুঁজে পাওয়া গেছে, কিন্তু নিখোঁজদের খোঁজ এখনও মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন- হেলালউদ্দিন (৫৪), তার ছেলে সজির হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) এবং ছেলে সামিন হোসেন (৫)। তারা কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের বাসিন্দা।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চেষ্টা চালান, কিন্তু নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার কাজ স্থগিত করেন। শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ট্রলারের সন্ধান মিললেও নিখোঁজদের খোঁজ মেলেনি। তবে ট্রলারে দুটি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ও নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বিয়ে বাড়িতে যান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত এবং বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অন্যদিকে, নিহত রায়েশা বেগম (৫৫) এর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশ। নিহত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
আমান সিমেন্ট কম্পানির একটি ট্রলার ৮ জনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হয়ে যান।
বিয়ের কনে সাজিয়া আক্তারের চাচা আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রলারডুবিতে তাদের ৪ আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া তার ফুফাতো বোন রায়েশা বেগম পানিতে ডুবে নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়িতে বিয়ের আনন্দ থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, অন্ধকারের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুনরায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (পরিদর্শক) শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের সন্ধান চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে শুক্রবার সকাল থেকে তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন