প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে ইরানি-আমেরিকান ফুটবল সমর্থকেরা গভীর দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও উৎকণ্ঠার সম্মুখীন হয়েছেন। অন্যদিকে মাঠে খেলা দেখার উত্তেজনা রয়েছে।
আবার, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে দুই দেশের সমর্থকরা মানসিক টানাপোড়েনে আছেন।
১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ইরান। তখন গ্যালারিতে বসে নিজের দেশকে সমর্থন জানাবেন ইরানি-আমেরিকান ব্যবসায়ী এহসান শাফি। প্রবাসী হিসেবে নিজ দেশের প্রতি সমর্থন জানানোর এই সুযোগকে তিনি বিরল হিসেবে দেখছেন।
তবে শাফির মতো অনেক ভক্ত দ্বিধাবিভক্ত হচ্ছেন, খেলবেন কি না। কারণ, একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ চলছে, তেহরানে ওয়াশিংটনের হামলা ঘটেছে, অন্যদিকে তেহরান দেশের বিক্ষোভকারী ইরানিদের কঠোরভাবে দমন করেছে। এসব কারণে জাতীয় ক্রীড়া উদযাপনও তাদের জন্য আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ইরানি-আমেরিকান ফুটবল ভক্তদের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা তাদের ইরানি পরিচয়ে গর্বিত, কিন্তু দেশের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভক্ত।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যাপক সংখ্যক ইরানি প্রবাসীরা বাস করেন। এই অঞ্চলের একটি অংশ ‘তেহরানজেলেস’ নামে পরিচিত। এখানে তারা নিজেদের প্রিয় দল 'টিম মেল্লি'র প্রতি ভালোবাসা পোষণ করেন। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দলের প্রতি সমর্থন জানানোকে অনেকেই তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে বৈধতা দেওয়ার সমান মনে করছেন।
ইরান ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে এবং এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে খেলবে। শাফিও টিকিট পেয়েছেন। একজন ভক্ত হিসেবে তিনি আশাবাদী, স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচগুলো উপভোগ করার বিরল সুযোগটি হাতছাড়া করতে চান না।
তবে অনেক কট্টর ইরানি ফুটবল ভক্ত এবার খেলাটি দেখার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিরত থাকা অথবা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা জানাচ্ছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দল দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না।
স্টেডিয়ামগুলোতে সরকারবিরোধী বা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের আশঙ্কা এবং মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির কারণে অনেক সমর্থক মাঠে গিয়ে খেলা দেখার জন্য দ্বিধাবোধ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন