প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) অক্টোবরের পরিবর্তে নভেম্বরে এই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগের মতো ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটের নির্ধারিত তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের জন্য তুলনামূলকভাবে সহায়ক সময়।
তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পাবলিক পরীক্ষা এবং বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। পূর্বে অক্টোবর মাসে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও এখন নভেম্বরে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইউপি নির্বাচন দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি আরও বলেন, পৌরসভা নির্বাচনও এই সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল, যা ফেরত এসেছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। কমিশন বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য চেয়েছিল ইসি।
গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউপি ও পৌরসভার তালিকা কমিশনে পৌঁছেছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ইসির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ইসি নির্ধারণ করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে ইসি। এর ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আইজিপি, বিজিবির মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সিইসি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রস্তুতি প্রয়োজন। আবহাওয়া, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র ও শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেটি বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইন ও বিধি ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা ও তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন