প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৬টি গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘর্ষ প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চলেছে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর-ভাঙ্গা অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ কারণে মহাসড়কের দুই পাশে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা পুলিশ জানিয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রাম ও মানিকদহ ইউনিয়নের ৪ গ্রামসহ মোট ১৬টি গ্রামের বাসিন্দারা এই সংঘর্ষে অংশ নেন।
জানা গেছে, পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বরের সমর্থক এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর কারণে রবিবার সকালে ঢাল-সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে জড়ো হন স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে এক পাশে অবস্থান নেন মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দারা এবং অপর পাশে জড়ো হন মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া ও সদরদিসহ ৪ থেকে ৫ গ্রামের বাসিন্দারা। পরে তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।
এ প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘর্ষের সময় পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে হাজারো গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের কারণে পুলিশের সার্কেল কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ওসি, একাধিক পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. হেলালুদ্দিন জানান, আজ সকাল ৯টা থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ৪ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বরের সমর্থক ও হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের জন্য জেলা সদরকে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন