প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সকল বিতরণ ও সরবরাহকারী কোম্পানির গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পুনরায় পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে দ্রুত একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিরীক্ষার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, আয়-ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের আর্থিক যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিইআরসি কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) সদস্যদের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিইআরসি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.) ও সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজসহ সংগঠনের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
জালাল আহমেদ জানান, কমিশনের অনুরোধে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানি গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি সিএ ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে কমিশনের একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে। আমাদের নিজেদের সক্ষমতা এই মুহূর্তে নেই। তাই একটি সিএ ফার্ম নিয়োগ করে কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনগুলো পুনরায় পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করা হবে।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিইআরসি আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী কমিশনের পূর্বানুমোদন নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এখনো সব প্রকল্পে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে জানান বিইআরসির চেয়ারম্যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
জালাল আহমেদ বলেন, “এনার্জি সেক্টরের যেকোনো প্রকল্প অনুমোদনের দায়িত্ব বিইআরসির। সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিইআরসির এই অনুমোদনও প্রয়োজন। কারণ একটি প্রকল্পের বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত ট্যারিফের সঙ্গে যুক্ত হবে।”
সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই বিনিয়োগের ব্যয় শেষ পর্যন্ত ট্যারিফের সঙ্গে যুক্ত হবে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিনিয়োগের আর্থিক সক্ষমতা, বিনিয়োগ থেকে অর্থ ফেরত আসার প্রক্রিয়া এবং পে-ব্যাক পিরিয়ড যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, কোনো প্রকল্পের ব্যয় ট্যারিফে যুক্ত করার সময় কমিশন প্রশ্ন তুলতে পারে—ওই বিনিয়োগ সম্পর্কে তারা আগে অবগত ছিল কি না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তি ও প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিইআরসির অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন।
দেশে এলপিজি সংকট এবং আসন্ন শীত মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এলপিজির সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সামনে শীত মৌসুমে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
জালাল আহমেদ বলেন, “এ পরিস্থিতিতে দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তরল জ্বালানি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, গত বছরের নভেম্বর থেকে এলপিজি নিয়ে সংকট শুরু হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর আবারও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
গ্যাসের মিটারযুক্ত ও মিটারবিহীন গ্রাহকদের ব্যবহারের পার্থক্য নিরূপণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে গবেষণা পরিচালনার কথাও জানান বিইআরসির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে মিটারযুক্ত ও মিটারবিহীন গ্রাহকেরা কী পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন