প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের ফলস্বরূপ অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সহ জেলার সকল অভ্যন্তরীণ রুট এবং দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের আহ্বানে এ ধর্মঘটে জেলার বিভিন্ন যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান, ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল।
এরপর ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখার দাবি করেন। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকের পর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
আবু মঈন চৌধুরী বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। বাসগুলো এখনও ছাড়া হয়নি। এই অবস্থায় বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করাই তাদের দাবি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই বাহুবলসহ হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার গণপরিবহনও বন্ধ থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষকে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন