প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের উপকণ্ঠে খুঝৌলি গ্রামের একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনাকারী চারজনকে নোটিশ জারি করেছে মোহনলালগঞ্জের একটি রাজস্ব আদালত। আদালতটি দাবি করেছে যে, সরকারি তদন্তে একটি পুকুর হিসেবে নথিভুক্ত জমিতে ভবন দুটির কিছু অংশ নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মোহনলালগঞ্জের আদালত ওই চারজনকে নির্দেশ দিয়েছে আগামী ২৯ অক্টোবর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য। সেখানে তারা প্রাসঙ্গিক নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারবেন এবং সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন। ২০০৬ সালের উত্তরপ্রদেশ রাজস্ব আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের ক্ষমতা দেয়।
স্থানীয় রাজস্ব কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের গণঅভিযোগ পোর্টালে গ্রামবাসীদের একটি অভিযোগের মাধ্যমে এই মামলার সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মসজিদ ও মাদ্রাসার কিছু অংশ পুকুরের জন্য নির্ধারিত জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর একজন রাজস্ব পরিদর্শক এবং একজন স্থানীয় ভূমি রেকর্ড কর্মকর্তা স্থানটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত জমির প্রায় ০.০৩ হেক্টর (আনুমানিক ৩০০ বর্গমিটার) অংশে স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
তবে, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত উচ্ছেদ বা ভাঙার কোনো নির্দেশ জারি করা হয়নি। এই আইনি প্রক্রিয়াটি কেবল একটি নির্দিষ্ট অংশের জমি সম্পর্কিত এবং এটি প্রমাণ করে না যে পুরো মসজিদ বা মাদ্রাসাটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। ভবন দুটি কতদিন ধরে সেখানে রয়েছে, কাগজে-কলমে এই প্লটের মালিক কে, কিংবা নোটিশপ্রাপ্ত চার পরিচালক জবাবে কী বলেছেন—প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।
এই নোটিশ জারির ফলে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, জমির একটি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে গড়াতে পারে। খুঝৌলির এই ঘটনা এখন একটি পরীক্ষা যে, পরিচালনা পর্ষদ ভূমির বিষয়ে সরকারের শ্রেণিবিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা ঠেকাতে পারে কি না।
উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় সম্পত্তিগুলোর ওপর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে তৈরি হওয়া ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যে এই ঘটনাটি সামনে এসেছে। এর আগে সাহারানপুরের সরকারি প্রশাসনিক কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা একটি মসজিদ ভেঙে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একটি স্থানীয় আদালত ওই মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবৈধ দখল বলে রায় বহাল রাখার পর তা ভেঙে ফেলা হয়। তবে ওই ভাঙচুরের ঘটনা মুসলিম সংস্থাসমূহ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার জন্য মসজিদ পরিচালনা পর্ষদকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই মসজিদ ভাঙার কঠোর নিন্দা জানান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের আইনি অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জামিয়াত উলামা-ই-হিন্দ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে তারা ঐতিহাসিক জমির রেকর্ড এবং আইনি নথি পর্যালোচনা করছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীও তাড়াহুড়ো করে মসজিদ ভেঙে ফেলার সমালোচনা করেছেন এবং কর্তৃপক্ষকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ২৯ অক্টোবরের পরবর্তী শুনানিতে স্পষ্ট হবে যে, লখনউয়ের এই মসজিদ মামলার পরিচালকরা কী নথি উপস্থাপন করতে পারেন এবং আদালত কীভাবে মামলাটি এগিয়ে নেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন