প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সাকের আহমেদ শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আগে, আলিফের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে বিকেল পাঁচটায় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানিয়েছেন, নিহত সাংবাদিক আলিফের শরীরে ৬টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫টি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি গুলি তার পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় গুলিটি বের করা হয়।
চিকিৎসক জানান, আলিফের বুকের অংশে তিনটি গুলি লাগে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠের দিকে শরীরের ভেতরে আটকে ছিল।
অপর তিনটি গুলির আঘাতের বিষয়ে চিকিৎসক বলেন, একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। আরেকটি মাথার উপরের অংশের চামড়া এবং অন্য একটি গুলি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, ‘শরীরে গুলির প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলিফকে সামনে থেকে গুলি করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল এলাকায় তেলনজিয়া গ্রামে একটি চা দোকানের সামনে গুলি করা হয় সাংবাদিক আলিফকে। তিনি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার পর থেকে জড়িত আসামীদের সনাক্তের কাজ চলছে বলে জানান। তিনি বলেন, আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ, ঘটনার আলামত বিশ্লেষণ, আলিফের ফেসবুক পেইজের পোস্ট সবকিছুকে মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। খুব শীঘ্রই জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন আনন্দিতা। তিনি বলেন, ‘এভাবে একজন মানুষকে কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলি করে মেরে ফেলবে, তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি। বাচ্চাদের যখন ভাত খাওয়াচ্ছিলাম, তখন গুলির শব্দ পেয়ে প্রথমে ভাবছিলাম কেউ হয়ত ফটকা (পটকা) ফুটাচ্ছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মানুষ বলাবলি করল, তাকে (লুৎফুজ্জামান) মেরে ফেলছে।’
স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আনন্দিতা বলেন, ‘আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাব না। আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
লুৎফুজ্জামানের ফুফু শাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা জানান, তারা তখন ঘরের বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনে দোকানের কাছে গিয়ে দেখেন লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। তারা এই হত্যার বিচার দাবি করেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের শিলা সাংমা ও প্রয়াত ফিলিপ রাংসার মেয়ে আনন্দিতাকে বিয়ে করেন লুৎফুজ্জামান। তাদের দুই সন্তান রয়েছে, চার বছর বয়সি মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছর বয়সি ছেলে আইয়ান সাফয়ান।
এদিকে ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহফুজা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান এবং দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাতসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা ছুটে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন