প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালন করল জাপান। বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে হামলায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এই উপলক্ষে জাপান বিশ্ব থেকে সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার আহ্বান জানায়।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, হিরোশিমার শান্তি স্মৃতি উদ্যানে এ উপলক্ষে একটি বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে অংশ নেন। অতিরিক্ত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল আমাদের এই স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এবারের অনুষ্ঠানে রেকর্ড ১২৩টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা সবাই পারমাণবিক বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে, বোমা হামলায় নিহতদের হালনাগাদ নামের তালিকা শান্তি স্মৃতিস্তম্ভের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় বর্তমানে মোট ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৯ জনের নাম রয়েছে।
গত এক বছরে মারা যাওয়া বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নামও তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
সকাল ঠিক ৮টা ১৫ মিনিটে সকল উপস্থিত অতিথিরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট ঠিক এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা শহরের ওপর বিশ্বের প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে হিরোশিমায় এই হামলাটি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই শহরের ওপর ইউরেনিয়ামভিত্তিক পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
বোমাটির সাংকেতিক নাম ছিল ‘লিটল বয়’। ভয়াবহ বিস্ফোরণ, তীব্র তাপ এবং তেজস্ক্রিয়তা কারণে পুরো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ বিস্ফোরণের সরাসরি প্রভাব, আগুনে দগ্ধ হওয়া এবং তেজস্ক্রিয়তার কারণে আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।
এর মাত্র তিন দিন পর, ৯ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি শহর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা ফেলে। সেই বোমার সাংকেতিক নাম ছিল ‘ফ্যাট ম্যান’। এরপর ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হয়। হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক হামলা থেকে জীবিত ফিরে আসা ব্যক্তিদের জাপানে ‘হিবাকুশা’ নামে উল্লেখ করা হয়। এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ভুগছেন। অনেকেই ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে জাপানে প্রায় ৯১ হাজার হিবাকুশা জীবিত ছিলেন। তাদের গড় বয়স এখন প্রায় ৮৬ বছর। সময়ের সাথে সাথে এই প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে।
হিবাকুশারা দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রচার চালিয়ে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। এনএইচকে জানাচ্ছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে, মে মাসে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনও কোনো চূড়ান্ত নথি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়নি। ফলে বিশ্বের পারমাণবিক ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, হিরোশিমার বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেইসাথে স্থায়ী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল দেশের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন