প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে এই প্রণালী দিয়ে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে এই পরিবর্তনটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই প্রণালীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর পূর্বে, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে বর্তমানে প্রণালী দিয়ে প্রকাশ্যে বা শনাক্ত করা যায় এমন জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে অল্প কয়েকটি জাহাজই এই পথে চলাচল করছে। যদিও জাহাজ চলাচল কমে গেছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখনও তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এসব তেলবাহী জাহাজের অনেকগুলোর অবস্থান শনাক্ত করার যন্ত্র বন্ধ রাখা হচ্ছে, ফলে এসব জাহাজের অবস্থান বা চলাচল সম্পর্কে সব সময় জানা সম্ভব হচ্ছে না।
আরো পড়ুন
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের।
জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য সাধারণত স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস ব্যবহার করা হয়। কোনো জাহাজ এই ব্যবস্থা বন্ধ রাখলে সেটির চলাচল প্রকাশ্যে দেখা কঠিন হয়ে যায়। বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রবিবার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব এমন চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজে পরিশোধিত তেলজাত পণ্য ছিল এবং বাকি দুটি জাহাজ ছিল খালি। এর একটি পণ্যবাহী এবং অন্যটি গ্যাসবাহী জাহাজ। একই দিনে ছোট আকারের আরো দুটি তেলবাহী জাহাজ উপসাগরীয় এলাকায় প্রবেশ করে। শনিবারও কয়েকটি জাহাজের চলাচল দেখা গেছে, ওই দিন পাঁচটি জাহাজ উপসাগরীয় এলাকা ছেড়ে যায়। এসব জাহাজে কৃষিপণ্য, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং সার ছিল।
আরো পড়ুন
২০৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হবে।
একই দিনে একটি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ খালি অবস্থায় উপসাগরীয় এলাকায় প্রবেশ করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। এসব জাহাজের মধ্যে ছিল তেলবাহী ট্যাংকার, গ্যাসবাহী জাহাজ, সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ এবং কনটেইনারবাহী জাহাজ। বর্তমানে প্রণালী দিয়ে শনাক্ত করা যায় এমন জাহাজের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন